মিসর ও তুরস্কে নির্মাণাধীন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। তাদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলো দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নির্ভরতা এবং কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের আল দাবা এবং তুরস্কের আক্কুইয়ু—উভয় বিদ্যুৎকেন্দ্রই রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প দুটি সম্পূর্ণ চালু হলে সংশ্লিষ্ট দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে দুটি প্রকল্পের মালিকানা ও অর্থায়নের কাঠামো ভিন্ন। মিসরের প্রকল্পের মালিকানা দেশটির সরকারের হাতে থাকলেও তুরস্কের আক্কুইয়ু প্রকল্পে মালিকানা ও পরিচালনায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ কারণে তুরস্কের জ্বালানি খাতে রাশিয়ার প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো জীবনচক্র কয়েক দশকজুড়ে বিস্তৃত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা তৈরি হয়। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কৌশলগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুটি কেন্দ্রই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতায় বেসামরিক প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত হবে। তবে পূর্ব ভূমধ্যসাগর, সুয়েজ খাল এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এগুলোর নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পগুলো সরাসরি সামরিক স্থাপনা না হলেও অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি নির্ভরতার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
















