শেষ টি–টোয়েন্টিতে যেন নতুন আলো হয়ে ফিরে এলেন তানজিদ। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে ব্যর্থতার অন্ধকারে ডুবে থাকা এই তরুণ ওপেনার আজ ব্যাট তুলে দিলেন পরিণত জবাব। ৩৫ বলের মায়াবী ফিফটি—যা তাঁর টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১১তম—বাংলাদেশকে এনে দিল অনায়াস জয়ের সোপান।
আয়ারল্যান্ডের দেওয়া মাত্র ১১৮ রানের লক্ষ্য পেরোতে বাংলাদেশকে আজ খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। ১৩.৪ ওভারেই মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দল। অপর প্রান্তে পারভেজ ছিলেন নির্ভার, ৩৩ রানের শান্ত ইনিংসে সঙ্গ দিয়েছেন বিজয়ের পথে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচ হারের পরই বদলে যায় বাংলাদেশের ছন্দ। পরবর্তী দুই ম্যাচে ব্যাট-বল-ফিল্ডিংয়ে দেখা মেলে দাপুটে উপস্থিতির, আর তারই পুরস্কার—৩ ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জয়।
আজকের ম্যাচে বল হাতেও ছিল আগুন। মোস্তাফিজের কাটার–মায়াজালে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা দিশেহারা। ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই বাংলাদেশের আশা জাগানিয়া। পাশে ছিলেন রিশাদ, তিনিও তুলে নেন ৩ উইকেট। পুরো দলকে ছায়া দিয়ে এগিয়ে রাখেন মেহেদী হাসান—যিনি শেষ পর্যন্ত সিরিজসেরার সম্মান নিজের করে নেন।
তানজিদ হন ম্যাচসেরা, আর মাঠজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর পরিশ্রমের গল্প।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১১৭ (স্টার্লিং ৩৮, ডকরেল ১৯; মোস্তাফিজ ৩/১১, রিশাদ ৩/২১)।
বাংলাদেশ: ১৩.৪ ওভারে ১১৯/২ (তানজিদ ৫৫*, পারভেজ ৩৩; টেক্টর ১/১৭, ইয়াং ১/৩০)।
ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: তানজিদ হাসান।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়।
সিরিজসেরা: মেহেদী হাসান।
মিরপুরের আকাশে তাই বিকেলের নরম আলোয় ভেসে উঠেছে বিজয়ের হাসি—বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করল, তারা লড়াই করতে জানে, ফিরে আসতে জানে, আর জিততে তো আরও বেশি জানে।
















