নাগপুর, অক্টোবর ৪, ২০২৫ — ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) শনিবার নাগপুরে its প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপন করেছে। এই কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ৩,৮০০ স্বেচ্ছাসেবক ঐতিহ্যবাহী খাকি প্যান্ট, সাদা শার্ট এবং কালো টুপি পরে কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত তার বক্তব্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈষম্যসহ নানা বিষয় স্পর্শ করেন। তিনি বলেন, কোনো জাতি একা থাকতে পারে না, একটি সমন্বিত সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ছাড়া দেশ টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
আরএসএস ১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেজেদওয়ার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। ছোট স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলে দাবি করে। সংগঠনের কাঠামো সচেতনভাবে জটিল ও অস্পষ্ট রাখা হয়েছে, যা বিভিন্ন হিন্দু জাতীয়তাবাদী গ্রুপের সঙ্গে সংযুক্ত।

যদিও আরএসএসকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, এটি ভারতের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব রাখে। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-এর অনেক শীর্ষনেতা, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রয়েছে, আগে সংগঠনটির সদস্য ছিলেন। শতবর্ষ উপলক্ষে মোদী স্মারক মুদ্রা ও ডাকটিকিট উন্মোচন করেন, যা বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিতর্ক ও সমালোচনা
আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। সমালোচকরা মনে করেন, সংগঠনটির হিন্দু-প্রধান নীতিমালা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পৃথক করে এবং ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে দুর্বল করে। ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো আয়োধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস (১৯৯২), যেখানে আরএসএসের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে দাঙ্গা হয়, যা ২,০০০-এর বেশি প্রাণহানির কারণ হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর আরএসএসকে কয়েকবার নিষিদ্ধ করা হয়, যার মধ্যে ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর হত্যার পর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছিল। এসব ঘটনার কারণে সংস্থার কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমান প্রভাব
বর্তমানে আরএসএস শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক কাজেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, দুর্যোগে সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি সংগঠনটি ভারতীয় রাজনীতিতে নিজস্ব নীতিমালা প্রচার করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন মূলত সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং জনমত প্রভাবিত করার একটি প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি জনসংযোগ বাড়িয়েছে, মিডিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং প্রকাশ্যে সমাবেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলেন, এর মূল হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দর্শন বদলায়নি।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
ভবিষ্যতে আরএসএস ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী প্রভাব রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এর প্রভাব, বহুত্ববাদী নীতিমালার ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং বিজেপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর অন্তর্নিহিত ভূমিকা বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও নজরদারির বিষয় হতে পারে।
সংক্ষেপে, শতবর্ষ উদযাপন শুধু একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত মাইলফলক নয়; এটি ভারতীয় রাজনীতিতে আরএসএসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক চ্যালেঞ্জেরও প্রতিফলন।
















