বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নিলাম এগিয়ে আসতেই বিসিবি যেন নীরব এক ঝড় তোলে। ফিক্সিং সন্দেহে থাকা ক্রিকেটারদের রাখবে না এমন সিদ্ধান্তের প্রতিফলন দেখা গেলো নিলামের চূড়ান্ত তালিকাতেই। প্রাথমিক তালিকায় থাকা সাত স্থানীয় ক্রিকেটারের নাম সেখানে আর নেই।
যারা একসময় মাঠ আলো করে খেলেছেন জাতীয় দলের জার্সিতে, এমন এনামুল হক কিংবা মোসাদ্দেক হোসেনও বাদ পড়লেন। তাঁদের সঙ্গে নেই আলাউদ্দিন বাবু, সানজামুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও শফিউল ইসলাম। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের কথা না বললেও বাতাসে ভেসে বেড়ায় একই সুর—ফিক্সিংয়ের ছায়া যেন তাঁদের ওপর ঠাণ্ডা অন্ধকারের মতো নেমে এসেছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে দলীয় কর্মকর্তাদের তালিকাও চেয়েছে বিসিবি। পরামর্শ দিয়েছে কঠোর—সন্দেহের গন্ধ লেগে থাকা কাউকে দলে তুলবেন না। এমন কেউ থাকলে তাঁকে নিলামের মর্যাদাসূচক অ্যাক্রিডেশনও দেওয়া হবে না। যেন পুরো আয়োজনটাই চাইছে নিজেকে পরিষ্কার, নিষ্কলুষ ও সন্দেহমুক্ত রাখতে।
গত বছরের বিপিএলের পর তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি যে দীর্ঘ ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়েছিল, তার প্রতিধ্বনি এবার আরও স্পষ্ট। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কিছু খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে দূরে রাখা জরুরি। পরবর্তী তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের পরামর্শক অ্যালেক্স মার্শালকে—যার ফলের ছাপ যেন নিলামের প্রতিটি সারিতে ফুটে উঠছে।
আগামীকাল রাজধানীর এক পাঁচতারকা হোটেলে বসবে এবারের বিপিএল নিলামের বর্ণিল মঞ্চ। অথচ তার পূর্বমুহূর্তে এমন বাদ পরার তালিকা অনেককেই ভাবিয়ে তুলেছে। ২৪ ডিসেম্বর মিরপুরে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা, আর ২৬ ডিসেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ—কিন্তু এই উৎসবের আলোয় কোথাও যেন আচমকা নেমে এসেছে একটুকরো বিষাদের ছায়া।
ক্রিকেটের মাঠে ফেরার অপেক্ষায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের নাম আজ তালিকার বাইরে। আর দর্শক মনে জমে থাকে প্রশ্ন—এই বাদ পরা কি সাময়িক? নাকি হারিয়ে যাওয়া আস্থার গল্পই ফিরে ফিরে আঘাত করে যাবে ভবিষ্যতের প্রতিটি নিলামে?
















