ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের কাছে গুলিতে দুই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাটিকে কর্তৃপক্ষ “টার্গেটেড শুটিং” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে “জঘন্য আক্রমণ” এবং “সন্ত্রাসী কার্যক্রম” হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক এবং বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব আফগানকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার বিস্তারিত
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে এক ব্যক্তি হঠাৎ ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের উপর গুলি চালান। সন্দেহভাজন হামলাকারীও পাল্টা গুলিতে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, হামলাকারী তিনজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের কাছে হেঁটে গিয়ে আচমকা গুলি চালান। একে একে দুই সদস্যকে গুলি করার পর তিনি প্রথমজনের দিকে আবার তাক করেন, তখন তৃতীয় গার্ড সদস্য পাল্টা গুলি চালান।
হামলার সময় ট্রাম্প ফ্লোরিডায় ছিলেন। বর্তমানে ওয়াশিংটনে প্রায় ২ হাজার ২০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ড কী?
ন্যাশনাল গার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি রিজার্ভ সামরিক বাহিনী, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সহিংসতা বা জাতীয় জরুরি অবস্থায় কাজ করে। সেনা ও বিমান—দুই শাখার সমন্বয়ে গঠিত এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩১ হাজার।
ঘটনায় আহত দুই সদস্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য বলে জানিয়েছেন গভর্নর প্যাট্রিক মরিসি।
হামলার স্থান
গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে পর্যটক-সমৃদ্ধ ফ্যারাগাট স্কয়ারে, যা হোয়াইট হাউস ও জনবহুল পরিবহন কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত। এলাকাটি ১৭৯১ সালে পিয়েরে ল’এনফাঁতের নকশায় নির্মিত এবং ছুটির মৌসুমে সাজসজ্জার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
আটক সন্দেহভাজন কে?
সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম ২৯ বছর বয়সী রাহমানুল্লাহ লাকানওয়াল। তিনি আফগানিস্তান থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান, যা আফগান নাগরিক পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে বাইডেন প্রশাসন শুরু করেছিল।
ট্রাম্প বলেন, লাকানওয়াল “আফগানিস্তানের মতো নরকসম দেশ থেকে” যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম কী?
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী, সাংবাদিক, নারী অধিকারকর্মীসহ ঝুঁকিতে থাকা হাজারো আফগানকে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচি চালু করে। প্রায় ৭৬ হাজার আফগান এই উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তবে কিছু রিপাবলিকান নিরাপত্তা যাচাই যথাযথ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।
এখন কী হতে পারে?
হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন আফগানদের পুনর্বিবেচনা ও সম্ভাব্য বহিষ্কারের উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন অভিবাসন দপ্তর সব আফগান অভিবাসন আবেদন আপাতত স্থগিত করেছে।
এদিকে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অতিরিক্ত আরও ৫০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে ওয়াশিংটনে পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্প বলেন, হামলাকারীকে “সবচেয়ে কঠোর শাস্তি” পেতে হবে এবং “যারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যোগ্য নয়” এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা আক্রমণের ঘটনাকে বরদাশত করা হবে না।
আফগান শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংগঠন #AfghanEvac জানায়, হামলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হওয়া উচিত হলেও, এই ঘটনা যেন আফগান সম্প্রদায়কে বৈরী করে তোলার অজুহাত না হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামা উভয়েই হামলার নিন্দা জানিয়ে আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ন্যাশনাল গার্ড প্রধান জেনারেল স্টিভেন নর্ডহাউস ঘটনাস্থলে ফিরতে গুয়ান্তানামো বে থেকে যাত্রা করেছেন, যেখানে তিনি সেনাদের সঙ্গে থ্যাঙ্কসগিভিং উদযাপন করছিলেন।
















