কঠিন সময় পার করছেন অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। গত সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর থেকেই তাঁর ভাইয়ের কোনো খোঁজ মিলছে না। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তবুও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ভাইয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। এবার এই বিপদ কাটতে না কাটতেই, বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন সেলিনা। তাঁর ভাষ্য, স্বামীর বাড়িতে চরম মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। অভিযোগের তির স্বামীর দিকে। অস্ট্রিয়ান স্বামী পিটার হ্যাগের বিরুদ্ধে তিনি পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ তোলেন। ইতিমধ্যে মুম্বাই আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেত্রী।
একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মুম্বাই আদালতে মামলা করে স্বামীর থেকে ৫০ কোটি রুপির খোরপোশ দাবি করেছেন সেলিনা। সন্তানদের জন্য মাসিক ১০ লাখ রুপির দাবিও করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর সেই অভিযোগের শুনানি হয়।

সেলিনার স্বামীকে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ ডিসেম্বর। ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী দাবি করেছেন, স্বামীর শারীরিক, মানসিক, যৌন ও মৌখিক নির্যাতনের কারণে তিনি অস্ট্রিয়ায় নিজের বাড়ি ছেড়ে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। সেলিনার অভিযোগ, ‘পিটার হ্যাগ মানুষ হিসেবে অত্যন্ত খারাপ মানুষ। এতটাই স্বার্থপর যে নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না। সবসময় মাথা গরম আর মদে আসক্ত।’ অভিযোগপত্রে সেলিনা আরও বলেছেন, ‘আমাকে সবসময় বলত আমি নাকি ওঁর পরিচারিকার মতো দেখতে। এ ছাড়া গায়ে হাত তোলা, গালিগালাজ ছিল নিত্যসঙ্গী।’

এদিকে, সেলিনা তাঁর অভিযোগপত্রে আরও জানান, পিটার হ্যাগ গত আগস্টে অস্ট্রিয়ার একটি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন।
২০১১ সালে হঠাৎ বিয়ের সুখবর দেন সেলিনা জেটলি। বিয়ের পর পিটার হ্যাগ তাঁকে কাজ করতে বারণ করেছিলেন। এবার তাঁদের সংসার ভাঙনের মুখে। সেলিনা তাঁর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, সন্তানদের কাছ থেকেও তাঁকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন তাঁর স্বামী। ফলে তিন সন্তানের কাছে যাওয়ার অধিকার চেয়েছেন অভিনেত্রী, যাঁরা বর্তমানে তাদের বাবার সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করছে।
















