৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করে। তিস্তা এক্সপ্রেসসহ একাধিক ট্রেন আটকে থাকে, যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। প্রশাসনের অনুরোধ সত্ত্বেও অবরোধ অব্যাহত।
বিসিএস পরীক্ষা পেছানোর দাবি: ৯ ঘণ্টা ধরে ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
২৪ নভেম্বর ২০২৫ | ময়মনসিংহ
৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল শিক্ষার্থী। রবিবার সকাল ১১টা থেকে তারা ঢাকা–ময়মনসিংহ রেললাইন অবরোধ করে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে দেন। রাত ৮টা পর্যন্ত রেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
অবরোধে ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ—বহু রুটে ট্রেন আটকে যায়। দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, চিকিৎসা, জরুরি কাজ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের মাঝেই তাঁরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনে আটকে ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি
আন্দোলনকারীরা বলেন, রুটিন প্রকাশের পর “যৌক্তিক প্রস্তুতির সময়” দেওয়া হয়নি। পরীক্ষার আগে অন্তত দুই মাস সময় চেয়ে তারা ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবি করেন।
শিক্ষার্থী মেহরাজ হাসান বলেন, “ন্যূনতম প্রস্তুতির সময় দিতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত রেলের চাকা ঘুরবে না।”
আরেক শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শুধু বাকৃবি নয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলন হচ্ছে।”
রেল যোগাযোগ স্থবির
রেললাইন অবরোধের ফলে ফাতেমানগরে মহুয়া কমিউটার, আউলিয়ানগরে অগ্নিবিনা এক্সপ্রেস, গফরগাঁওয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস এবং ময়মনসিংহ জংশনে বলাকা ও দেওয়ানগঞ্জ কমিউটারসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে যায়।
তিস্তা এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল রানা বলেন, “পরীক্ষা পেছানো যৌক্তিক দাবি হতে পারে, কিন্তু রেল অবরোধে সাধারণ মানুষ অযথা ভোগান্তিতে পড়ছে।”
আরেক যাত্রী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “কিছু হলেই রেল বা সড়ক অবরোধ ঠিক নয়। সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।”
প্রশাসনের চেষ্টা ব্যর্থ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং স্থানীয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের repeatedly বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা অবরোধ না সরানোর ঘোষণা দেন।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, “সারাদিনই রেল চলাচল বন্ধ ছিল। যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বলপ্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের জনদুর্ভোগ বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং জানান, পিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
পূর্ববর্তী দিনের অবস্থা
এর আগের দিনও একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করেন। রাত ৮টার দিকে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পোড়ানোর প্রতীকী প্রতিবাদ শেষে তারা সরে দাঁড়ালেও রাতে আবার রেললাইনে অবস্থান নেন। আজকের অবরোধে তারা আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
















