ঢাকা ও আশপাশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—যেকোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে। রাজধানীর দুই লাখ ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখ করে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান।
নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার কম্পন বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা—দুই লাখ ভবন ধসে পড়তে পারে বড় ভূমিকম্পে।
ঢাকা,২২ নভেম্বর ২০২৫:
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার পাশেই—নরসিংদীর মাধবদী, যা পুরো দেশকে কাঁপিয়ে দেয় কয়েক সেকেন্ডের জন্য। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটা কেবল সতর্ক সংকেত। সাম্প্রতিক ছোট-মাঝারি ভূমিকম্পগুলোর ধারাবাহিকতা সামনে আরও বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভৌগোলিক গঠনের কারণে বাংলাদেশ তিনটি সক্রিয় ফল্টলাইনের মাঝখানে অবস্থান করায় ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে বলছেন—ঢাকা সবচেয়ে ঝুঁকিতে। রাজধানীর অধিকাংশ ভবনই বিল্ডিং কোড অনুসারে নির্মিত নয়। অপরিকল্পিত গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইন, সরু রাস্তা ও ঘনবসতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
গবেষণা বলছে, কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু হয়ে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত চলমান টেকটোনিক প্লেট সংযোগস্থল শত বছর ধরে লকড অবস্থায় রয়েছে। সেখানে সঞ্চিত শক্তি যেকোনো সময় ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের রূপ নিতে পারে। আর কেন্দ্র যদি ঢাকার আশপাশে হয়—রাজধানীর দুই লাখ ভবন ধসে পড়ার শঙ্কার কথা জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরও নিশ্চিত করেছে—এটি ছিল ঢাকার কাছে সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই রাজধানীর ভবনগুলো পরীক্ষা করে ঝুঁকি নিরূপণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের একটাই বার্তা—বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং সামনে আরও বড় কম্পনের সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না। প্রস্তুতির অভাবই দুর্যোগকে ভয়াবহ বিপর্যয়ে রূপ দিতে পারে।
















