মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থাই সীমান্তবর্তী একটি বড় অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রয়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫০ জনকে আটক করেছে। দেশটির বেড়ে ওঠা কালোবাজারি প্রতারণা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ঘোষিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বুধবার সেনাবাহিনী জানায়, সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলো এসব প্রতারণা কেন্দ্রকে নিজেদের সুরক্ষায় পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল পুনর্দখল করার পর সেনাবাহিনী অভিযান চালাতে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে কারেন রাজ্যের মিয়াওয়াদ্দি টাউনশিপে অবস্থিত শ্বে কোকো এলাকায় সেনারা হানা দেয়।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, “অভিযানে বর্তমানে তদন্তাধীন ৩৪৬ জন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। অনলাইন জুয়া ও প্রতারণায় ব্যবহৃত প্রায় ১০ হাজার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।”
এই প্রতারণা কেন্দ্রটি পরিচালনায় চীনা-কাম্বোডিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ও সন্দেহভাজন প্রতারক শে ঝিজিয়াংয়ের ইয়াতাই গ্রুপ জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তাকে ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে আটক করা হয় এবং গত সপ্তাহে চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আগে থেকেই শে এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস ও কম্বোডা জুড়ে সীমান্ত অঞ্চলগুলো অনলাইন প্রতারণার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, এসব এলাকা মানবপাচার হওয়া মানুষদের জোরপূর্বক কাজে লাগিয়ে বিলিয়ন ডলার আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
চীনের চাপের পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমারের সেনা সরকার প্রকাশ্যে দমন-পীড়নের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযান অনেকটাই প্রচারণাধর্মী, যাতে বেইজিংকে সন্তুষ্ট রাখার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মিত্র মিলিশিয়াদের আর্থিক স্বার্থও অক্ষুণ্ণ থাকে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ছড়িয়ে পড়া গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে সীমান্ত অঞ্চলগুলো প্রতারণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য আরও উর্বর হয়ে ওঠে। হাজারো মানুষ স্বেচ্ছায় কিংবা পাচার হয়ে এসব কেন্দ্রে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
গত অক্টোবরেই থাই সীমান্তের কুখ্যাত কেকে পার্ক এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযানে ২,০০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছিল।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত করে।
















