ঢাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলা ঠেকাতে ‘গুলির নির্দেশ’ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী। ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় পুলিশের কঠোর অবস্থান।
বিক্ষোভ–লোডাউন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ; শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে।
ঢাকায় অগ্নিসংযোগ–ককটেল হামলা দমাতে ‘গুলির নির্দেশ’ পুলিশের
ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ — রাজধানীতে সম্প্রতি বেড়ে ওঠা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেলে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে এই নির্দেশ দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা।
কমিশনার সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে জানান,
“যদি কেউ বাসে আগুন দেয় বা ককটেল ছুড়ে জীবনহানির চেষ্টা করে, তাকে গুলি করতে বলা হয়েছে। আইন এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনুমোদন করে।”
জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণার কথা থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ, লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগও এ সময় অনলাইনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সদস্যদের মনোবল দৃঢ় করতে কমিশনার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষায় বলপ্রয়োগের অনুমতি থাকলেও আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের নির্দেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনারের ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে হত্যা’ নির্দেশনা ঘিরেও তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আগেই জানিয়েছে,
“সন্দেহভাজন অপরাধীকেও বিচারবহির্ভূত গুলি বা হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ঢাকায় আগুন–বিস্ফোরণের ধারাবাহিকতার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান আজ আরও স্পষ্ট হলো।
















