ধীরে ধীরে ধেয়ে আসছে ক্রান্তীয় ঝড় ফাং-ওয়ং। তার সঙ্গে আসছে বৃষ্টির গর্জন, বাতাসের হাহাকার। তাইওয়ানের উপকূলে ভয়াল এই ঝড় আঘাত হানার আগে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তিন হাজারেরও বেশি মানুষ।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বুধবার সকাল নাগাদ ঝড়টি দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার, আর দমকা হাওয়ায় তা ছুঁয়েছে ঘণ্টায় ১০১ কিলোমিটার।
একসময় সুপার টাইফুন হিসেবে আতঙ্ক ছড়ানো ফাং-ওয়ং এখন কিছুটা দুর্বল হলেও তার হুমকি রয়ে গেছে প্রবল। বুধবার রাতে তাইওয়ানের মাটিতে আছড়ে পড়বে এই ঝড়, এরপর উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এর আগেই ফিলিপাইনে ঝড়টি কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১৮ জনের প্রাণ। টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে বহু এলাকা। এখন সেই ঝড়ের ভারী দেহে আঘাতের অপেক্ষায় তাইওয়ান।
দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে বুধবার সকাল থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল ও অফিস। বাতিল করা হয়েছে সব অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। অনেক জায়গায় আগেভাগেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি আর নদীর পানি ফুলে ওঠার আশঙ্কা। তাইওয়ানের উত্তরের এক অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে প্রায় ৭৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে পূর্ব উপকূলের হুয়ালিয়েন অঞ্চলে, যা পাহাড়ি ভূমিধস ও ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এখানেই জারি হয়েছে সবচেয়ে বড় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ। গত সেপ্টেম্বরেও এই জেলায় পাহাড়ি বাঁধ ভেঙে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৯ জন মানুষ।
বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সেই বিপজ্জনক বাঁধ এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে আবারও বিপদের মুখে পড়েছে স্থানীয় মানুষ।
সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, হুয়ালিয়েনের এক গ্রামে তীব্র স্রোতের পানিতে গাড়ি ভেসে যাচ্ছে, রাস্তা ধুয়ে গেছে প্লাবিত জলে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাইওয়ানের বিভিন্ন অঞ্চলে জারি থাকবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। এরপর ধীরে ধীরে সাগরের বুকে মিলিয়ে যাবে ফাং-ওয়ং, রেখে যাবে ধ্বংসস্তূপ, আর নিঃশব্দ কাঁপন—প্রকৃতির।
















