অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে দারুণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের বড় লিড পেয়েছে দলটি। বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তৃতীয় দিনের সকালে ছয় উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে দ্রুত দুটি উইকেট হারালেও মিরাজের ৬৫ রান ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিংয়ে দলটি চারশ ছাড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জশ হ্যাজলউড পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তবে তাঁর এই সাফল্যও বাংলাদেশের বড় লিড ঠেকাতে পারেনি।
এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। নিজের প্রথম ওভারেই জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করে ফেরান হাসান মাহমুদ। দুই ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ এক উইকেটে সাত রান। স্বাগতিক দল এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ২২১ রানে পিছিয়ে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিকরা। হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছিলেন ছয় উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন পেয়েছিলেন দুটি করে উইকেট।
ব্যাট হাতেও বাংলাদেশ শুরু থেকেই দৃঢ়তা দেখায়। তানজিদ হাসান নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করেন। নাজমুল হোসেন করেন ৮৪ রান। মুমিনুল হকের ৪৯, মুশফিকুর রহিমের ৩৬ এবং মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪২৬ রান বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪২৭ রান করেছিল বাংলাদেশ।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই দিনের ছয়টি সেশনের সবকটিতেই এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে নাজমুল হোসেনের দল।
এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।
















