১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান: কর্মসূচি পালনে নামলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ
ঢাকা, ১০ নভেম্বর ২০২৫: কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচি কঠোরভাবে ঠেকাতে মাঠে নামছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামার চেষ্টা করলেই তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা থেকে এসব কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়।
কোর কমিটির সভার মূল সিদ্ধান্ত:
যেহেতু আওয়ামী লীগের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার জন্যই হঠাৎ এই বৈঠক ডাকা হয়, তাই সভায় নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচনা হয়:
- গ্রেপ্তারের নির্দেশ: লকডাউন কর্মসূচিতে কেউ মাঠে নামলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- সক্রিয়তা বৃদ্ধি: আগামী কয়েক দিন ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- চেকপোস্ট স্থাপন: ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে চেক পোস্ট বসানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- উপস্থিতি: বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার স্থগিত:
যদিও গত মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আজকের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা হয়।
- স্থগিতের কারণ: বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কারণ মূলত আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে মাথায় রেখে। আপাতত সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঠ থেকে না সরিয়ে আরও কিছুদিন রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্য: বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন, “সেনাবাহিনী আগের মতোই মাঠে থাকবে। মাঠ থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করা হবে না।”
কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা:
বৈঠকে বিদেশে বসে আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির একাধিক নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে যে প্রচার চালাচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
- নেতাকর্মীর আগমন: আলোচনায় আসে যে আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বরগুনা, বরিশাল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুর থেকে বেশ কিছু নেতা–কর্মী ঢাকায় এসেছেন।
- নেতাদের বিষয়ে নজরদারি: বৈঠকে আওয়ামী লীগের বরিশাল অঞ্চলের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয় এবং আভাস দেওয়া হয় যে এই দুই নেতা বিদেশ বসে অতীতের মতো কোনো কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “১৩ নভেম্বর ঢাকা লকডাউন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ।”
















