ম্যানচেস্টারের আকাশে রবিবারের বিকেলটা যেন এক মহোৎসবের ছোঁয়া ছড়িয়ে দিয়েছিল। পেপ গার্দিওলার কোচিং জীবনের এক হাজারতম ম্যাচে তার দল ম্যানচেস্টার সিটি লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে আবারও জ্বলে উঠল নতুন আশায়।
গোলের ফুলঝুরি শুরু করেন সেই চেনা মুখ আর্লিং হালান্ড। ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিস করলেও পরে দুর্দান্ত এক হেডে জালে বল জড়িয়ে নেন তিনি—এটাই তার প্রিমিয়ার লিগের ৯৯তম গোল। এরপর নিকো গনজালেজের ডিফ্লেক্টেড শট এবং জেরেমি ডোকুর জাদুকরী দূরপাল্লার গোল ম্যানসিটিকে উপহার দেয় এক অনিন্দ্য জয়।
এই জয়ে সিটি এখন আর্সেনালের চেয়ে মাত্র চার পয়েন্ট পেছনে। আর্সেনাল শনিবার সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে হোঁচট খাওয়ার পর গার্দিওলার শিষ্যরা সুযোগটা লুফে নেয়।
অন্যদিকে, লিভারপুলের জন্য দিনটা ছিল বিষণ্ন। শেষ পাঁচ ম্যাচে এটি তাদের চতুর্থ পরাজয়। শিরোপা নয়, এখন তাদের লড়াই যেন টিকে থাকার—টপ ফোরে ফেরার আশায়।
ম্যাচের শুরুতেই সিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ডোকুর গতিময় ড্রিবলিং, চেরকির শট, হালান্ডের সুযোগ—সব মিলিয়ে লিভারপুলের ডিফেন্স ছিল দিশাহারা। গোলরক্ষক মামারদাশভিলি হালান্ডের পেনাল্টি ঠেকিয়ে সাময়িক স্বস্তি আনলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। নুনেসের ক্রস থেকে হালান্ডের হেডেই খেলা খুলে যায়।
এরপর ভির্জিল ভ্যান ডাইক মনে করেছিলেন, কর্নার থেকে তার হেডে গোল হয়েছে। কিন্তু অ্যান্ডি রবার্টসনের অফসাইড অবস্থান ভেঙে দেয় সেই আনন্দ। কয়েক মিনিট পরেই গনজালেজের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে জালে জড়ায়, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-০।
দ্বিতীয়ার্ধে কোডি গাকপোর এক অবিশ্বাস্য সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর যেন সব শেষ হয়ে যায় লিভারপুলের। আর তখনই আসে ডোকুর জাদু—বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো এক শটে বল গড়ায় সরাসরি জালে। এ যেন এক শিল্পকর্ম, যার সৌন্দর্যে স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়াম।
লিভারপুলের জন্য দিনটি ছিল হতাশার প্রতীক। মোহাম্মদ সালাহর পা থেকেও আসেনি রক্ষা। শেষ দশ মিনিটে তার সহজ সুযোগটি বেহাত হয়।
ম্যাচ শেষে ডোকু বলেন, “এমন জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমার চারপাশে এমন দারুণ খেলোয়াড়রা থাকায় আমি প্রতিদিন আরও ভালো হতে চাই।”
অন্যদিকে, ভ্যান ডাইক স্বীকার করেন, “আমাদের প্রেসিং যথেষ্ট ছিল না। ম্যানসিটির মতো দলের বিপক্ষে ছোট ভুলগুলোও ভয়াবহ হয়ে যায়।”
এই জয়ের মধ্য দিয়ে পেপ গার্দিওলা তার ১,০০০তম ম্যাচে তুলে নিলেন এক স্মরণীয় জয়। যেন নিজের ফুটবল দর্শনের এক রঙিন সাক্ষ্য রেখে গেলেন তিনি—যেখানে শিল্প, শৃঙ্খলা আর সৌন্দর্য মিলে জন্ম দেয় সাফল্যের সুর।
















