আফ্রিকান চাইল্ড ডে উপলক্ষে কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও অঙ্গীকার সামনে এসেছে। মানবিক মূল্যবোধ ও শিশু-কেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
কেনিয়ার লিকুয়ানিতে আন্তর্জাতিক আফ্রিকান শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য খাদ্য দিয়ে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুতের প্রদর্শনী, বিশুদ্ধ পানি উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
একই সময়ে শ্রীলঙ্কার মানবাধিকারকর্মীরা দেশটিতে শিশু নির্যাতনের হাজারো অমীমাংসিত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা শিশু সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন, স্বাধীন শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ এবং শিশু নির্যাতন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত সার্ক, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ উচ্চপর্যায়ের দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা, শোষণ ও বৈষম্য বন্ধে নতুন জাতীয় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ এবং মানবিক সমাজ গঠনে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজক ও মানবাধিকারকর্মীরা মনে করেন, শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের যৌথ মানবিক দায়িত্ব।
















