ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ১২১তম দিনে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালানোর পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল সালেম মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন সতর্কতামূলক সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং কুয়েত জানায়, তারা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক, বান্দার-ই-লেঙ্গেহ ও কেশম দ্বীপসহ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান হরমুজ প্রণালিকে ভবিষ্যৎ মার্কিন আগ্রাসন ঠেকানোর অন্যতম কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ওমান, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত বাহরাইনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলা চালিয়েছে, যদিও একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবাননের সঙ্গে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ ওই চুক্তিকে “অকার্যকর” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না কংগ্রেসের যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন হামলার সমালোচনা করেছেন।
















