কিউবার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা ভলকার তুর্ক। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিধিনিষেধ এবং সাম্প্রতিক অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা কিউবার জনগণের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে শিশুদের মৃত্যু ঘটছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, এ ধরনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জ্বালানি সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে কিউবার বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও শীর্ষ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিরোধী মত দমনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মনে করেন, এর ফলে সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবা ক্রমেই আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগও কমে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি এক হাজার নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হারও কমে গেছে।
কিউবার স্বাস্থ্য খাতও গুরুতর সংকটে রয়েছে। অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো রোগী, যাদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্যানসার চিকিৎসা ও কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় মৌসুম, তীব্র গরম এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে পানিবাহিত ও রোগবাহক কীটপতঙ্গজনিত রোগের বিস্তার বাড়তে পারে।
তার ভাষায়, কিউবার জনগণের জন্য এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবনতির এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলবে।
















