ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা জোরদার করায় সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
রুশ নিয়ন্ত্রিত দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান দেনিস পুশিলিন জানিয়েছেন, বাসটি মস্কো থেকে ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাচ্ছিল। হামলার পর আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির তদন্ত কমিটি।
এদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গের বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এ সময় শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এর একদিন আগে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনজুড়ে অন্তত ২৩ জন নিহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনাল, ক্রনস্টাড সামরিক ঘাঁটি এবং অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাম্বভ অঞ্চলের একটি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল।
রাশিয়ার ক্রেমলিন জানিয়েছে, এসব হামলার জবাব পদ্ধতিগতভাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, বিশেষ সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে যাতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা যায়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে জানা যায়। হামলায় একটি তেল টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক রাতেই বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৩৫৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত রাশিয়া ৬৫৬টি ড্রোন এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার দাবি, দুই সপ্তাহ আগে লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে প্রাণঘাতী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা সাম্প্রতিক আক্রমণ চালিয়েছে।
















