বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া এখন একদম শেষ ধাপে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ৩০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে বেছে নিয়েছে ২২ জন কোচকে, যারা এখন প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। এই তালিকার বিশেষ আকর্ষণ হলো-ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কোচদের অন্তর্ভুক্তি!
বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও জাতীয় দল কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। আজ তিনি যেমনটা বলছিলেন, ‘আমরা প্রধান কোচের জন্য ২২ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেছি আর গোলকিপিং কোচ ১৪ জনকে নির্বাচিত করেছি।’
আগামী জাতীয় দল কমিটির সভায় এই তালিকা নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে অগ্রসর হওয়ার আগে প্রাথমিক তালিকার মান ও সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। তালিকায় লাতিন আমেরিকার কোচদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘তালিকায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কোচও আছে। আমাদের কাছে সংক্ষিপ্ত তালিকায় যাদের সিভি দেখে মনে হয়েছে যে তাদের জাতীয় দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, তাদেরই রাখা হয়েছে।’
কোচ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাফুফে যে আপসহীন মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। ‘আমরা প্রো-লাইসেন্সকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। যাদের প্রো-লাইসেন্স ছিল না, তাদের শুরুতেই তালিকা থেকে বাদ দিয়েছি। এছাড়া কোচদের অভিজ্ঞতা, টেকনিক এবং বর্তমানে তারা কোথায় কাজ করছেন, সেই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে।’
প্রাথমিক তালিকার কোচদের বয়স সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হলেও অভিজ্ঞতার বিচারে ৬৫ বছর বয়সী একজন কোচও জায়গা পেয়েছেন। এখান থেকে দ্রুতই ৩ থেকে ৪ জনকে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য বেছে নেওয়া হবে, যেখানে খেলোয়াড়দের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এখনো পর্যন্ত কোনো কোচের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ না করার বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু কোনো কোচের সাথে সরাসরি এখনও কথা বলিনি। সত্যি কথা যেটা আমরা কোনো কোচের সাথে এখনও সরাসরি কথা বলিনি। ম্যানেজমেন্ট কমিটি কাল সিদ্ধান্ত নেবে কার সঙ্গে কথা বলবে।’
কোচ নিয়োগে বাজেট যে বড় বিষয়, সেটিও অস্বীকার করছেন না বাফুফের এই কর্মকর্তা, ‘ভালো কোচ সে যেকোনো জায়গায়ই ভালো করতে পারে। তাঁর প্রতিভা কোনো না কোনোভাবে বের করবেই। ভালো কোচ আনতে হলে তো ভালো পয়সা খরচ করতেই হবে।’
কোচ হাভিয়ের কাবরেরার দায়িত্ব শেষ হয়েছে গত এপ্রিলে। দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় পর তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল এখন নতুন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়, যেখানে এই কোচ নিয়োগ হতে পারে ভবিষ্যতের বড় মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত।
















