ব্রিটেনের বার্মিংহামে আজ এক অস্থির সন্ধ্যার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় ফুটবল ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা আজ মুখোমুখি হচ্ছে ইসরায়েলি দল মাকাবি তেল আবিবের, ইউরোপা লিগের এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে। কিন্তু এই খেলার আবহে ছড়িয়ে আছে ভয়, ক্রোধ আর বিক্ষোভের ছায়া।
বার্মিংহাম শহরে মোতায়েন করা হয়েছে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য। তিন সপ্তাহ আগেই অ্যাস্টন ভিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে মাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন ম্যাচের দিন ঘনিয়ে আসতেই বাড়ছে উদ্বেগ—মাঠের বাইরে সম্ভাব্য সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ আর প্রতিবাদের পূর্বাভাসে প্রস্তুত পুলিশ বাহিনী।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা টম জয়েস জানিয়েছেন, “আমরা জানি বিভিন্ন গোষ্ঠী প্রতিবাদের পরিকল্পনা করছে। আমরা এমন প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে মানুষের প্রতিবাদের অধিকারও রক্ষা পায়, আবার শহরের নিরাপত্তাও বজায় থাকে।” তিনি নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন সন্ধ্যায় ম্যাচের সময় ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে।
প্রো-প্যালেস্টাইন সংগঠনগুলো—গেম ওভার ইসরায়েল, হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন এবং হেলথ ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন—আজ ভিলা পার্কের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তারা ইসরায়েলের গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে এবং ফিফা থেকে দেশটির বহিষ্কারের দাবিতে মাঠের চারপাশে ব্যানার ও ফিলিস্তিনি পতাকা টাঙিয়েছে।
অ্যাস্টন ভিলা কর্তৃপক্ষ ১৬ অক্টোবর জানায়, পুলিশ নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করায় তারা দর্শক নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে আমস্টারডামে মাকাবি তেল আবিবের খেলার সময় সহিংসতায় ৬০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়েছিল। এমনকি নরওয়ে ও ইতালিতে ইসরায়েল জাতীয় দলের ম্যাচ চলাকালে বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছিল।
ভিলা ক্লাব জানায়, এই সিদ্ধান্ত নিরাপত্তা পরামর্শ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে পুলিশের রিপোর্টে বলা হয়েছে—স্টেডিয়ামের বাইরে সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামলানো কঠিন হবে।
ফুটবল বিশ্লেষক নিকোলাস ব্লিনকো সতর্ক করে বলেন, “এটি একেবারে বিপদের রেসিপি।” তিনি জানান, মাকাবি সমর্থকদের একাংশ অতিরাষ্ট্রবাদী ও বর্ণবাদী আচরণের জন্য কুখ্যাত। “তাদের স্লোগানগুলো ভয়াবহ—আরবদের মৃত্যু, ফিলিস্তিনি শিশুদের মৃত্যু নিয়ে তারা গান গায়।”
ব্লিনকো বলেন, এই দলের সমর্থকদের উপস্থিতি শুধুই উত্তেজনা বাড়াত। “তারা সরাসরি ইসরায়েল থেকে বার্মিংহামে আসে না। লন্ডনে নেমে ট্রেনে যাত্রা করতে হয়, আর এত বিশাল দূরত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কার্যত অসম্ভব।”
তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সিদ্ধান্তকে “ভুল” বলে মন্তব্য করেছেন, যদিও ব্লিনকো মনে করেন তার এমন অবস্থান ছিল “অব্যাখ্যাত ও অপ্রয়োজনীয়”।
এরই মধ্যে অ্যাস্টন ভিলা সমর্থকদের সতর্ক করেছে—খেলার সময় কোনো রাজনৈতিক প্রতীক, বার্তা বা পতাকা প্রদর্শন করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হবে এবং দর্শক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
আজকের রাতের খেলা শুধু মাঠের লড়াই নয়—এ যেন মানবিকতা, ন্যায়বোধ আর ক্রোধে উত্তাল এক পৃথিবীর প্রতিচ্ছবি। যখন বল গড়াবে সবুজ ঘাসে, তখন শহরের রাস্তায় ভেসে উঠবে আরেক সুর—প্রতিবাদের, প্রতিরোধের, এবং এক অনন্ত প্রশ্নের—ফুটবল কি সত্যিই রাজনীতির বাইরে থাকতে পারে?
















