প্রাক-নির্বাচন মূল্যায়ন: আইআরআই’র শঙ্কার সঙ্গে একমত সরকার
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) তাদের প্রাক-নির্বাচন মূল্যায়নে বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশকে ‘ভঙ্গুর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ জানিয়েছেন, আইআরআই-এর এই মূল্যায়নের সঙ্গে সরকারের কোনো দ্বিমত নেই এবং সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইআরআই’র মূল পর্যবেক্ষণ
আন্তর্জাতিক নীতি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত আইআরআই মিশন নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারী কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
| ক্ষেত্র | আইআরআই’র পর্যবেক্ষণ |
| সংস্কার এজেন্ডা | প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ১১টি কমিশন এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে একটি উচ্চাভিলাষী সংস্কার এজেন্ডা চালু করেছে, যা জুলাই জাতীয় সনদে শেষ হয়েছে। |
| সনদ বাস্তবায়ন | সনদটি (৮৪টি প্রস্তাবসহ) ব্যাপকভাবে অনুমোদিত হলেও, পদ্ধতিগত অস্পষ্টতা, সময় এবং প্রয়োগের বিষয়ে দলের ভিন্ন অবস্থানের কারণে এর বাস্তবায়ন অনিশ্চিত রয়ে গেছে। |
| নির্বাচনি নিরাপত্তা | নির্বাচনি নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্বাচন কমিশন সশস্ত্র বাহিনীকে তার নির্বাচনি নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছে। |
| নির্বাচনি পরিবেশ | এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, প্রাক-নির্বাচনের পরিবেশ ভঙ্গুর রয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে প্রশ্ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাস বিদ্যমান। |
| নতুন গতিশীলতা | তরুণ নেতৃত্বাধীন দলগুলোর উত্থান এবং প্রবাসীদের প্রথমবারের ভোটারদের প্রত্যাশিত উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততায় পরিবর্তন আনতে পারে। |
| উদ্বেগ | প্রার্থী বাছাইয়ে স্বচ্ছতার অভাব, নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব, এবং চরমপন্থি আন্দোলন ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্থান বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ভিত্তিকে ক্ষয় করতে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। |
| প্রতিষ্ঠিত দল | প্রতিষ্ঠিত দলগুলো রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রাখলেও অভ্যন্তরীণ এবং খ্যাতিমূলক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব ও সহিংসতা বাড়াতে পারে। |
| নিয়োগ প্রক্রিয়া | পার্টি স্পেকট্রাম জুড়ে মনোনয়ন এবং প্রার্থী-নির্বাচন প্রক্রিয়াগুলোতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যা ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক বা দলাদলি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত। |
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিক্রিয়া:
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ আইআরআই’র প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন:
- ঐকমত্য: “আইআরআই’র যে ফাইন্ডিংস বা আশংকার কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে সরকারের কোনও দ্বিমত নেই।”
- সরকারের প্রস্তুতি: “সরকারও এইসব বিষয়ে অবগত আছে এবং সেই বিষয়ে সক্রিয়ভাবে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেগুলো নিচ্ছে।”
- ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত: তিনি উল্লেখ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সময় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বারবার বলেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য কারা ষড়যন্ত্র করবে, সে বিষয়ে জাতি অবগত।
আইআরআই’র পরামর্শ:
আইআরআই মনে করে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার আন্দোলনের প্রতিশ্রুতিটি বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যায় কি-না, তা আগামী মাসগুলোতে স্পষ্ট হবে।
- সরকারের সাফল্যের শর্ত: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার এজেন্ডাকে বাস্তব বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর।
- ঐকমত্য ও আস্থা: মেরুকরণ প্রশমিত করতে এবং রূপান্তরের প্রতি আস্থা জোরদার করতে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা, স্বচ্ছ নির্বাচন প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্য অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
















