বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, নির্বাচন আয়োজনে টালবাহানা হলে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বক্তব্যের মূল বিষয়:
বিএনপি মহাসচিব মঙ্গলবার (০৬ নভেম্বর) বিকেলে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর টাউন হল ময়দানে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথাগুলো বলেন।
১. দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান:
- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বার্তা: মির্জা ফখরুল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি টালবাহানা না করে দ্রুত নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করার আহ্বান জানান।
- ব্যর্থতার হুঁশিয়ারি: তিনি বলেন, “তা না হলে আপনারা ব্যর্থ সরকার হিসেবে চিহ্নিত হবেন।”
২. নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র ও সতর্কতা:
- চক্রান্তের অভিযোগ: তিনি অভিযোগ করেন যে, “কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে বানচাল করতে চক্রান্ত করছে” এবং “ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। ফ্যাসিবাদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।”
- বিএনপির অবস্থান: তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএনপি ভেসে আসা কোনো দল না। অনেক হামলা, মামলা, কারাভোগ আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি আজকে এই অবস্থানে এসেছে।”
- নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি: তিনি বলেন, “দয়া করে পানি ঘোলা করবেন না। দেশকে অস্থিতিশীল করবেন না। নৈরাজ্য শুরু করবেন না। বিএনপি রাস্তায় নামলে তখন পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে।”
৩. সংস্কার কমিশনের সমালোচনা:
- সংস্কার নিয়ে অসন্তোষ: মির্জা ফখরুল সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করেন, উল্লেখ করেন যে কমিশন ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সভা করেছে।
- ঐকমত্যের দাবি: তিনি ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ প্লাজায় সব দলের স্বাক্ষরে সংস্কারের প্রস্তাব পাস হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
- চূড়ান্ত পদক্ষেপের দাবি: তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভা শেষে আসিফ নজরুলের মন্তব্যের (রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের সময় দেওয়া হলো) সমালোচনা করে বলেন, “মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দল তাদের হাতের পুতুল।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে তাতে স্বাক্ষর হয়েছে। বাকিগুলো সংসদে সমাধান হবে। ফলে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করুন।”
















