মার্চ শেষে ডলারের মজুত ৪.৬ বিলিয়ন; ৯ মাসে ২৬.২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের নতুন মাইলফলক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় এবং আমদানির উচ্চ ব্যয়ের কারণে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার (ডলার) মজুত কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকগুলোর কাছে ৫.১১ বিলিয়ন ডলার থাকলেও ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা ৪.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তারল্য সংকট থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ডলারের মজুত ৩.৭৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল, যা ২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসায় মার্চে এই পরিস্থিতির কিছুটা উত্তরণ ঘটে।
ডলারের মজুত ও রেমিট্যান্সের চিত্র:
- রেকর্ড রেমিট্যান্স: মার্চ মাসে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড রেমিট্যান্স এসেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩.০২ বিলিয়ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রবাসীরা সঞ্চয় দেশে পাঠানো বৃদ্ধি করায় এই বড় লাফ দেখা গেছে।
- অর্থবছরের অর্জন: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬.২ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২১.৮২ বিলিয়ন। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার এবং সরকারি প্রণোদনা প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করেছে।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়: জুলাই ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রায় ৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে। ১২১ থেকে ১২২.৫ টাকা দরে এই ডলার কেনার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়লেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা ডলারের পরিমাণ কমেছে।
চাপের মুখে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার:
- আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৬.১৭ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২.৪৩ বিলিয়ন ডলার বেশি।
- রফতানি হ্রাস: একই সময়ে রফতানি আয় ৩০ বিলিয়ন থেকে কমে ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং রফতানি আয় কমে যাওয়া ব্যাংকগুলোর ডলার তারল্যে টান ফেলেছে।
- বর্তমান রিজার্ভ: ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আইএমএফ-এর (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০.৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে তা ৩৫.১১ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকাররা সতর্ক করেছেন যে, মার্চের এই উন্নতি সাময়িক হতে পারে। কারণ এটি মূলত ঈদ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে আসা অতিরিক্ত রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং আমদানির চাপে লাগাম টানা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















