ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় ১৯৭৯ সালে এসডিও নিজাম উদ্দিন এর ভিত্তি প্রস্তরের মাধ্যমে এবং ১৯৮০ সালের ২ জুন সরাইলের কৃতিসন্তান জনসংখ্যা প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার মো. ফরিদুল হুদার কর্তৃক আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধনকৃত সরাইল সরকারি পাবলিক লাইব্রেরিটি উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা, অব্যবস্থা পনা, তদারকির অভাবে, পরিচালনা কমিটি গঠন না করা আর খেয়ালিপনায় লাইব্রেরিটি আজ শিক্ষার আলোথেকে অন্ধকারে পর্যবসিত হয়ে ধ্বংসস্তুপে রুপ নিয়েছে। স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতি হলেও নেই এটার প্রতি খেয়াল।
অব্যবস্থাপনার কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই লাইব্রেরিতে থাকা প্রায় তিনহাজার বই গায়েব/চুরি হয়ে বইশুন্য হয়ে পড়েছে লাইব্রেরিটি।দরজা,জানালা,কলাপ্সসেবল গেইট সবই আজ উম্মুক্ত। রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আড্ডাখানা আর চোরের অভয়ারণ্য এই লাইব্রেরিটি।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর স্থানীয় সাহিত্য সংষ্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গ, কবি,লেখক, সাংবাদিক ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের আন্তরিকতা আর সহযোগিতায় গড়ে উঠা আলোকিত পাবলিক লাইব্রেরিটি গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন। লাইব্রেরিতে ভাঙাচুড়া শেলফ, আলমিরা, তাক পড়ে থাকলেও নেই এগুলোতে বইয়ের চিহ্ন।
একাধারে প্রায় ২০ বছর লাইব্রেরিটিতে বই পিপাসু, লেখক, কবি, শিক্ষক, সৃজনশীল মানুষের সরগড়ম থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের তদারকির অভাবে প্রায় দীর্ঘ সময় যাবত কোন কমিটি না থাকায় লাইব্রেরিতে মানুষ যাবে তু দুরের কথা এটা যেন উপজেলা সদরের সকল অপকর্মের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের নাকেরডগায় অবস্থিত লাইব্রেরিযটির এই অব্যবস্থাপনার জন্য উপজেলা নাগরিক কমিটি ও বোদ্ধামহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইতিপূর্বে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাব, প্রথম আলো, মানবজমিনসহ স্থানীয় দৈনিক প্রজাবন্ধু ও সাপ্তাহিক পরগনায় এসংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি উপজেলা প্রশাসনের। একসময় প্রতিটি জাতীয় দিবসে লাইব্রেরিটিতে বিতর্ক, সংগীত, রচনা,কবিতা আবৃত্তি,প্রবন্ধপাঠ,চিত্রাঙ্কনের আয়োজন করা হতো নিয়মিত।
সুধীজনরা যেকোনো ভালো অনুষ্ঠানের জন্য বেচে নিতো লাইব্রেরিটি। আজ এগুলো স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।
লাইব্রেরিটির পরিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদ ও সরকারের বরাদ্ধ বাদেও আধুনিকায়নের লক্ষে লাইব্রেরিটির নিচতলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ভাড়া দেওয়া হয়, যদিও কিছুদিন আগে ফাউন্ডেশনটিকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্ত ভাড়াসহ কয়েকলক্ষ টাকা লাইব্রেরির তহবিলে জমা আছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল পরিদর্শনে দেখা যায় লাইব্রেরিতে প্রবেশের মূল ফটক থেকে শুরু করে ভিতরে প্রবেশের সকল প্রবেশপথ সমুহ সকলের জন্য উম্মুক্ত হয়ে পড়ে আছে,দেখার কেউ নেই। যে কারণে রাতের আধারে চোর আর মাদকাসক্তদের মিলন মেলা বসে লাইব্রেরিতে।
ইদানীং সরাইল উপজেলার অফিস পাড়ায় বেশ কয়েকটি চুরি সংঘটিত হয়েছে। স্থানীরা দৈনিক ইনকিলাবকে জানায়,চোর আর মাদকাসক্তদের আড্ডাস্থল হলো লাইব্রেরি। এখানথেকেই চোর আর মাদকাসক্তরা রাতের আধারে পরিকল্পনা করে নিয়মিত অফিস পাড়ায় চুরি সহ নানা অপকর্ম করে আসছে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান,আমি মাত্র যোগদান করেছি, সরাইলের একমাত্র লাইব্রেরিটির শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো,ইনশাআল্লাহ। সরাইলের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
















