বংশীয় ঐতিহ্য, ডিজিটাল যুগের স্মিয়ার ক্যাম্পেইন এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায়
বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক ধারাগুলোর অন্যতম উত্তরাধিকারী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান কেবল একটি পরিবারের প্রতিনিধি নন, বরং তিনি বর্তমানে এদেশীয় রাজনীতিতে জাঁকিয়ে বসা ব্যক্তিগত কুৎসা ও লিঙ্গভিত্তিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক জীবন্ত প্রতিবাদ। ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সক্রিয়তা এবং প্রতিপক্ষের কুরুচিপূর্ণ আক্রমণগুলো রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কার্যকারিতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
১৯৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করা জাইমা রহমান এমন এক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যার ইতিহাস বাংলাদেশের জন্ম ও বিকাশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি এবং তারেক রহমানের কন্যা জাইমা দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত থেকে আইন পেশায় দক্ষতা অর্জন করেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আগামীর নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
রাজনৈতিক অশ্লীলতা ও জাইমা রহমানের অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে আদর্শিক লড়াইয়ের জায়গা দখল করেছে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নির্বাচনি প্রচারণার সময় জাইমা রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের নারীবিরোধী, বর্ণবাদী ও অশ্লীল প্রচারণা চালানো হয়েছে, তা সভ্য সমাজের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই আক্রমণগুলো কেবল ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি নয়, বরং উদীয়মান নারী নেতৃত্বকে মানসিকভাবে দমানোর এক অপকৌশল।
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ ও জাইমার অবস্থান: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (CPO) ২০২৫’ কিছুটা মানবাধিকার বান্ধব হলেও এতে ‘অশ্লীলতা’র সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অভাব রয়েছে। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজেই এই অস্পষ্টতার সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল কঠোর আইন দিয়ে নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও নৈতিক আচরণবিধির মাধ্যমেই এই ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ বা কুৎসা রটানোর সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব।
বিদেশের নারী রাজনীতিকদের দৃষ্টান্ত ও শিক্ষা: জাইমা রহমান তাঁর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিদেশের সফল নারী নেত্রীদের মতো রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রস্তাব করেছেন:
- জিরো টলারেন্স: ইউরোপ-আমেরিকার মতো লিঙ্গবাদী আক্রমণকে ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে গণ্য করা এবং দ্রুত আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা।
- দলমতনির্বিশেষে সংহতি: নিউজিল্যান্ডের জেসিন্ডা আর্ডার্ন বা ফিনল্যান্ডের সানা মারিনের মতো সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে দলমত নির্বিশেষে সর্বদলীয় প্রতিবাদের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
- টেক জায়ান্টদের দায়বদ্ধতা: ফেসবুক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে দ্রুত অশ্লীল কনটেন্ট অপসারণ নিশ্চিত করা।
নারীর ক্ষমতায়ন ও আগামীর রাজনীতি: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও রাজনৈতিক অশ্লীলতার কারণে অনেক মেধাবী নারী এই পথে আসতে ভয় পান। জাইমা রহমানের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন এখনো ‘মরীচিকা’। তিনি ২০২৬ সালের এক সেমিনারে উল্লেখ করেছেন যে, রাজনীতি এখনো নারীদের জন্য একটি ‘বর্জনমূলক ক্ষেত্র’ (Exclusionary Field)।
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের বর্তমান অবস্থান এবং তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া অপপ্রচারের বিপরীতে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামীর বাংলাদেশ কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মেধা, শিষ্টাচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালার লড়াইয়ে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করছে জাইমা রহমানের মতো নেতৃত্বের দৃঢ়তার ওপর।
















