ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একদিকে কয়েকটি দেশ এই চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও স্থগিতের দাবি তুলছে, অন্যদিকে জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো তা আটকে দিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান এই চুক্তি মূলত বাণিজ্য, গবেষণা ও কূটনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পায়। তবে চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি সম্মান বজায় রাখা।
বর্তমানে এই মানবাধিকার শর্ত নিয়েই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া দাবি করছে, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এই শর্ত লঙ্ঘন করছে, ফলে চুক্তি স্থগিত করার যৌক্তিকতা তৈরি হয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও একই দাবি তুলেছে। তারা অভিযোগ করছে, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এ কারণে চুক্তি স্থগিতসহ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই বিষয়ে চাপ বাড়ছে। একটি নাগরিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষকে চুক্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে, যা ইউরোপীয় কমিশনকে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে বাধ্য করছে।
এই চাপের প্রধান কারণ গাজা পরিস্থিতি। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এই পরিস্থিতিকে গুরুতর মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখছে। আন্তর্জাতিক আদালতেও এ বিষয়ে মামলা চলছে এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। অবৈধ বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা এবং ভূমি দখলের ঘটনা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছে, এসব কার্যক্রম ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ঐক্যের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে অনিচ্ছুক এবং তারা মনে করে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত।
সব মিলিয়ে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতার কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিতের দাবিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রমেই বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে, যদিও তা বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত।
















