অবশেষে এলো সেই স্বপ্নের দিন, যখন ভারতের নারী ক্রিকেট দলের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো বিজয়ের গান। নাভি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে ভারতীয় নারীরা।
রবিবারের সেই ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। একসময়ের স্বপ্ন, আজ তা বাস্তব—তৃতীয়বার ফাইনালে উঠে অবশেষে শিরোপা স্পর্শ করল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট একা লড়ে শতরান তুললেও শেষ পর্যন্ত পারেননি ভারতীয়দের আনন্দযাত্রা থামাতে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বৃষ্টিবিলম্বের পর ভারত তোলে ২৯৮ রানে ৭ উইকেট। শেফালি ভার্মার ঝড়ো ৭৮ বলে ৮৭ রান, দিপ্তি শর্মার রান-এ-বল ৫৮ এবং ঋচা ঘোষের ২৪ বলে ৩৪ রানের ইনিংস ভারতকে দেয় এক অনন্য গতি। ওপেনার স্মৃতি মন্ধানাও যোগ করেন মূল্যবান ৪৫ রান, যার মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টে মোট ৪৩৪ রান করে ভারতীয় ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন—পেছনে ফেলেন কিংবদন্তি মিতালি রাজকেও।
দক্ষিণ আফ্রিকা যখন জবাবে ব্যাট করতে নামে, তখনও আশা জেগেছিল। দশ ওভার শেষে তারা পঞ্চাশ পার করে ফেলেছিল। কিন্তু তাজমিন ব্রিটসের রান আউটেই শুরু হলো পতনের গল্প। শ্রিচরনির বলের জালে আটকালো আন্নেকে বোশ, আর শেফালি ভার্মা নিজেই তুলে নিলেন সুনে লুস ও মারিজান কাপের উইকেট—দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ছিন্নভিন্ন।
একাই লড়ে গেলেন লরা উলভার্ট—৯৮ বলে ১০১ রান করে ডিপ্তি শর্মার বলে ক্যাচ তুলে দিলেন আকাশে। তাঁর লড়াই যতই অনুপ্রেরণামূলক হোক, দলের অন্য প্রান্তে ভেঙে পড়া উইকেটগুলো রুখতে পারেনি বিপর্যয়। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ২৪৬ রানে, ৪৬তম ওভারে।
এদিন ডিপ্তি শর্মা তুলে নেন পাঁচ উইকেট—৫ উইকেটে ৩৯ রানের অসাধারণ বোলিং ফিগার। তাঁর হাতেই মুঠোবন্দি হয় দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন।
হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারতের মেয়েরা দেখিয়ে দিলেন, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস মিলে কীভাবে ইতিহাস লেখা যায়। অতীতে ২০০৫ ও ২০১৭ সালে ফাইনালে উঠে থেমে গিয়েছিল ভারত—তখন হারতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের কাছে। আজ সেই অসমাপ্ত কাহিনির পরিসমাপ্তি ঘটল।
এই প্রথম কোনো নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের উপস্থিতি ছিল না—এক নতুন যুগের সূচনা যেন ভারতই লিখে দিল।
পুরস্কার হাতে তুলে নিয়ে হারমানপ্রীত কৌরের চোখে জ্বলজ্বল করছিল গর্ব আর অশ্রু। তাঁর দলের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল একটাই সত্য—“আমরা পারি।”
















