দশম গ্রেডের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা: ৮ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান শুরু হবে।
ঢাকা: দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ে এবার কঠোর অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর ব্যানারে আগামী ৮ নভেম্বর, শনিবার থেকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দশম গ্রেড নির্ধারণসহ তিন দফা দাবিতে সম্মিলিতভাবে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে।
সরকার যখন একটার পর একটা শিক্ষক আন্দোলনে বিব্রত অবস্থায়, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের এই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা এলো। উল্লেখ্য, গত ২১ দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইবতেদায়ি শিক্ষকরাও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
তিন দফা দাবি
সহকারী শিক্ষকদের এই আন্দোলনের মূল দাবিগুলো হলো:
১. সহকারী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি দশম গ্রেড প্রদান।
২. ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
নেতৃত্বের বক্তব্য ও হতাশা
আন্দোলনকারী শিক্ষক নেতারা কর্তৃপক্ষের বারবার আশ্বাসের পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহিন) সভাপতি মো. আবুল কাসেম বলেন, “বারবার আশ্বাস দিয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করছেন না। তাই আমরা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হলাম।”
- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, “পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর, নার্স, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা—এরা দশম গ্রেডে বেতন-ভাতা পান। সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েও সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডও পাননি। যারা এখনও ভাবছেন ঘরে বসে দাবি আদায় সম্ভব হবে, তারা ভুলের মধ্যে রয়েছেন।”
- বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ জানান, গত ১৭ অক্টোবর আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করাটা “আত্মঘাতী” ছিল। তিনি বলেন, “আমরা এবার সম্মিলিতভাবে লাগাতার কর্মসূচিতে যাচ্ছি।”
- দশম গ্রেড বাস্তবায়নের সমন্বয়ক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, “নিয়োগ যোগ্যতা অনুযায়ীই আমরা দশম গ্রেড দাবি করছি। কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের কথা উঠলেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের খাজাঞ্চিতে টান পড়ে।”
তৃতীয় ধাপে নিয়োগ সুপারিশ পাওয়া সহকারী শিক্ষক মো. মহিব উল্লাহ এই কর্মসূচিতে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন।
❌ পে-কমিশনের ওপর দায় চাপানোর অভিযোগ
শিক্ষক নেতারা জানান, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড নির্ধারণের পর সহকারী শিক্ষকরা প্রথমে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টি পে-কমিশনের ওপর ছেড়ে দেয়। কিন্তু দুই মাস পর পে-কমিশন জানায়, গ্রেড পরিবর্তনের কাজ তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়, এটি সার্ভিস কমিশনের কাজ। পে-কমিশনের অপারগতার পরই শিক্ষকরা পুনরায় তাদের মূল দাবি দশম গ্রেডে ফিরে যান এবং নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষক নেতারা আগামী ৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় সকল শিক্ষককে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
















