যুক্তরাষ্ট্রে এক চীনা সেমিকন্ডাক্টর গবেষকের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করে বেইজিং বলেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “বৈরী জিজ্ঞাসাবাদ”-এর পরই ওই গবেষকের মৃত্যু হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মৃত গবেষকের নাম দানহাও ওয়াং, যিনি University of Michigan-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, ওই গবেষককে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী “বৈরীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ” করেছিল, যা চীনা নাগরিকদের বৈধ অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তারা এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়বদ্ধ ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
ওয়াং বৈদ্যুতিক ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী গবেষক ছিলেন এবং তার গবেষণার ক্ষেত্র ছিল সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি।
এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত চীনা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেইজিং। দূতাবাস তাদের সতর্ক থাকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আচরণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা দুই দেশের শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল প্রযুক্তি খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কঠোরতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এ ধরনের ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে মানুষে মানুষে যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
















