দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে আলোচনায় বসতে সম্মত তেহরান ও ওয়াশিংটন
১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে আলোচনা
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার শুরু হবে। এই আলোচনা হবে তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে।
দুই দেশের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এ তথ্য জানায়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয়ে থাকে।
ইরানের আংশিক অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং তেলের দাম বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যদি ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকে, তবে দেশটির বাহিনীও প্রতিরোধমূলক অভিযান বন্ধ রাখবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, এই যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে ইসলামাবাদে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ চুক্তিকে জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে ইরান স্পষ্ট করে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছে না এবং যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করলেও জানিয়েছে, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান এর আওতায় পড়বে না।
















