ঋণখেলাপি ও চেক জালিয়াতির মামলায় আসামি যশোরের ব্যবসায়ী শরিফুল আলম। শুনানির দিনে তার আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় সময় চেয়ে যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতে আবেদন করেছিলেন। তার আবেদন নামঞ্জুর করে ‘একতরফাভাবে’ বাদীর বক্তব্য শুনে যুক্তিতর্কের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন বিচারক রাশেদুর রহমান। শরিফুল আলমকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ শরিফুল আলম পক্ষপাতিত্ব, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুনের আদালতে মামলা করেন। এ মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন বিচারক মাহমুদা খাতুন।
এদিকে গতকাল বিকেলে পরোয়ানার ভিত্তিতে আদালত এলাকা থেকেই শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শরিফুলের আইনজীবী যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর এসব তথ্য জানিয়েছেন। আইনজীবীদের সঙ্গে অসদাচরণ, বিভিন্ন অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জন করে আসছে জেলা আইনজীবী সমিতি। গত ৪ মার্চ জেলা আইনজীবী সমিতি সাধারণ সভা করে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই বর্জনের কারণে শরিফুলের মামলায় বিচারক রাশেদুর রহমানের আদালতে উপস্থিত হননি এম এ গফুর। এ অবস্থায় আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেই আদালতের কার্যক্রম চালাচ্ছেন বিচারক রাশেদুর রহমান।
জানা গেছে, বিচারকের বিরুদ্ধে শরিফুল আলমের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ‘বিচারক রাশেদুর রহমান বিচারাধীন অনেক মামলায় অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ও কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা অভিযোগ গ্রহণ না করায় আদালতেই মামলা করতে হয়েছে।’
শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসাসংক্রান্ত ঋণের খেলাপি ও চেক ডিজঅনারের অভিযোগে কয়েক বছর আগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখা। এ মামলাটির বিচার চলছে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতে। এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ‘ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিচারক এটি বিচারাধীন রেখেছেন। বিচারকের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নিলে যশোরের মানুষ ন্যায়বিচার পাবেন। যশোরের আদালতে আইনের শাসন ও বিচারিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।’
বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়ার বিষয়টি অবগত নন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রফিকুল ইসলাম। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সালাউদ্দীন হোসেনকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
















