ইসলামি আইন ও নৈতিকতার দৃষ্টিতে চুরি, ছিনতাই বা জবরদখল যেমন অপরাধ, তেমনি জেনেশুনে সেই চোরাই পণ্য ক্রয় করাও সমান অপরাধ। এই নিষেধাজ্ঞা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে না, বরং সমাজের অপরাধমূলক চক্রকে দুর্বল করার একটি কার্যকর কৌশল। কোনো মুসলিমের জন্য জেনেশুনে চোরাই, ছিনতাই বা জবরদখলকৃত পণ্য ক্রয় করা বৈধ নয়। কারণ এটি অপরাধীকে পরোক্ষভাবে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করার শামিল।
চোরাই পণ্য ক্রয়ের মাধ্যমে একজন ক্রেতা নিজের অজান্তেই দুটি বড় পাপের ভাগীদার হন:
অপরাধে সরাসরি শরিক হওয়া: চোরাই পণ্য কেনা চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধকে উৎসাহ দেয়। একজন চোর বা ছিনতাইকারী যখন দেখে যে, সে তার চুরি করা পণ্যের জন্য বাজারে ক্রেতা পাচ্ছে, তখন তার অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়ে। এভাবে ক্রেতা জেনেশুনে সেই অপরাধীর কর্মকাণ্ডকে অর্থনৈতিকভাবে সমর্থন করে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জঘন্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে চোরাই জিনিস কিনল, সে চুরির অপরাধ ও তার পাপে শরিক হলো।(সুনানুল বাইহাকি) এই হাদিস স্পষ্ট করে দেয় যে, একজন ক্রেতা চোরাই পণ্য কিনে কেবল একটি লেনদেন করছেন না, বরং তিনি চুরির পাপ ও শাস্তির অংশীদার হচ্ছেন।
মালিকের অধিকার কখনোই রহিত হয় না: মানব রচিত আইনে অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে মালিকের অধিকার রহিত হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে, সময়ের দীর্ঘতা কোনো হারামকে হালাল বানাতে পারে না।
ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি হলো— চোরাই, ছিনতাই বা জবরদখলকৃত সম্পদ থেকে তার আসল মালিকের অধিকার কখনোই রহিত হয় না। যতদিন সেই পণ্যটি মূল মালিকের কাছে ফেরত না দেওয়া হবে, ততদিন তা অবৈধ সম্পদ হিসেবেই গণ্য হবে। ক্রেতা সেই পণ্যটি যত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করুক না কেন, সে গুনাহের ভাগীদার থাকবে।
চোরাই পণ্য ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে ইসলাম মূলত অপরাধের চক্রটিকে ভেঙে ফেলতে চায়। যদি বাজারে চোরাই পণ্যের কোনো ক্রেতা না থাকে, তবে চোর বা ছিনতাইকারী তাদের অপরাধের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবে না। লাভবান হতে না পারলে তারা ধীরে ধীরে অপরাধ করা থেকে বিরত থাকবে।
অতএব, আমাদের সবার দায়িত্ব হলো— ব্যক্তিগত মুনাফার চেয়ে সমাজের শান্তি ও ন্যায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। যেকোনো লেনদেনের ক্ষেত্রে পণ্যের উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং কোনো সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক সস্তা পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুসলিমের ঈমানী কর্তব্য। জেনেশুনে অন্যের অধিকার নষ্টকারী সম্পদ ক্রয় করা মানে নিজের আখেরাতকে বিপন্ন করা।
















