বাংলা পুরোনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছর বরণকে কেন্দ্র করে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হচ্ছে উৎসবের আমেজ। পাহাড়ে বসবাসরত ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। এই আয়োজনকে ঘিরে পাহাড়িরা বড় পরিসরে ১৫ দিনব্যাপী উৎসব করে থাকে। মূল উৎসব হয় ৩০ চৈত্র। ১২ এপ্রিল কাপ্তাই হ্রদে ভাসানো হবে ফুল। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির রাজস্থলির বাঙ্গালহালিয়ায় মারমা জনগোষ্ঠীর জলকেলী উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাহাড়ের এ বর্ণিল উৎসব।
তবে এ বর্ণিল আয়োজনের শুরু হচ্ছে সোমবার (আজ) থেকেই। রাঙামাটি জেলা পরিষদ ও রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ৬ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে। এ ছাড়া মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি, পাজন রান্না, মঞ্চনাটক, চিত্রাঙ্কন ও বর্ণমালা লিখন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বসেছে মেলা। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও ব্যবহার্য পোশাকের শতাধিক স্টল বসেছে। পাহাড়িদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে সমতল থেকে আসা সংস্কৃতিপ্রেমী উৎসুক মানুষও যোগ দিয়ে থাকেন এ উৎসবে।
উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। উৎসবে বিশেষ অতিথি থাকছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব অনুপ কুমার চাকমা এনডিসি পিএসসি, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, ডিসি নাজমা আশরাফী, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লে কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান থাকছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার।
এদিকে বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসু, বিষু, চাক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু-২০২৬ উদযাপন কমিটির ব্যানারে পৃথক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ৯ থেকে ১২ এপ্রিল চার দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রধান অতিথি থাকছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি-জেএসএস প্রধান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। ১২ এপ্রিল সকালে রাঙামাটি রাজবন বিহার পূর্বঘাটে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসিয়ে উৎসবের পর্দা নামবে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমা বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনষ্ঠান, ভাষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর আলোচনা সভাসহ স্থানীয় উদ্যোক্তাদের পণ্যসমাগ্রী নিয়ে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
















