ভারতের বড় শহরগুলোতে এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই গৃহকর্মী পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থায় কাজের গতি বেড়েছে, তবে এতে কর্মীদের জন্য ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দিল্লির কাছে নয়ডায় সিমা কুমারী নামের এক নারী প্রতিদিন বিভিন্ন বাসায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। একটি অ্যাপভিত্তিক সেবার মাধ্যমে তিনি কাজ পান। আগে যেখানে তাকে কারখানায় কাজ করতে হতো, এখন তিনি বেশি আয় করতে পারছেন বলে জানান।
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে গৃহকর্মীদের নিয়োগ হতো পরিচিতির মাধ্যমে, কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই। নতুন স্টার্টআপগুলো এই খাতকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছে, যেখানে গ্রাহকরা দ্রুত সেবা বুক করতে পারেন।
এই খাতে প্রায় তিন কোটি কর্মী রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী এবং তাদের অনেকেরই অন্য কোনো স্থায়ী কাজের সুযোগ নেই।
প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক এবং ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হয়েছে। এতে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও নতুন ধরনের চাপও সৃষ্টি হয়েছে।
কর্মীদের জন্য গ্রাহকের রেটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি খারাপ রেটিং ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া দেরি হলে বা কোনো কারণে কাজ বাতিল হলে জরিমানাও দিতে হয়।
অনেক সময় কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করে অ্যালগরিদমভিত্তিক সিস্টেম, যা কাজ বণ্টন, সময় নির্ধারণ এবং পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে। এতে তাদের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে প্রচলিত ব্যবস্থায়ও নানা সমস্যা ছিল। দীর্ঘ সময় কাজ, কম মজুরি, দেরিতে বেতন এবং নিরাপত্তাহীনতা ছিল সাধারণ বিষয়।
নতুন ব্যবস্থায় আয় কিছুটা বাড়লেও কর্মীদের অভিযোগ, জরিমানা ও অন্যান্য কাটছাঁটের কারণে হাতে কম টাকা থাকে। কখনো কখনো যাতায়াতের বিলম্ব বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণে দেরি হলেও তাদের দায় নিতে হয়।
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ১৫ মিনিটে সেবা দেওয়ার চাপ মানবিক নয় এবং কর্মীদের মৌলিক অধিকার যেমন ছুটি বা পেনশনের নিশ্চয়তা নেই।
এছাড়া কাজের সময় বিশ্রাম বা মৌলিক সুবিধারও অভাব রয়েছে। অনেক কর্মী জানান, কাজের ফাঁকে খাবার খাওয়া বা বিশ্রামের সুযোগ পান না।
যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে তারা বেতন, বীমা এবং অভিযোগ ব্যবস্থার মতো সুবিধা দিচ্ছে, তবুও বাস্তবে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে।
এই নতুন সেবা শহরের তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হলেও অনেক পরিবার এখনো অপরিচিত কাউকে ঘরে প্রবেশ করাতে দ্বিধায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু কাজের ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং গৃহকর্মী ও নিয়োগকারীর সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন আনছে।
















