চীনে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহকারী ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশটির প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নতুন দিক তুলে ধরছে। ওপেনক্ল নামে পরিচিত এই সহকারীকে অনেক ব্যবহারকারী ‘লবস্টার’ নামে ডাকছেন এবং নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
এই প্রযুক্তিটি উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক হওয়ায় ব্যবহারকারীরা সহজেই এর কোড পরিবর্তন করে নিজেদের কাজে লাগাতে পারছেন। পশ্চিমা প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে চীনে এই ধরনের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম বিশেষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
একজন তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী জানান, তিনি এই সহকারী ব্যবহার করে অনলাইনে পণ্য বিক্রির কাজ দ্রুত করতে পারছেন। আগে যেখানে দিনে অল্প কিছু পণ্য তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হতো, এখন কয়েক মিনিটেই অনেক বেশি কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই প্রবণতাকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের অ্যাপ তৈরি করছে। বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ এই প্রযুক্তির ব্যবহার জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং অনেকে সরাসরি প্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তরে গিয়ে এর অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগ্রহের পেছনে সরকারের নীতিগত সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিল্প ও অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের লক্ষ্যে চীন দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ করে আসছে।
সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শহরে উদ্যোক্তাদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে এবং আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি পর্যন্ত নানা খাতে এর ব্যবহার বাড়ছে।
তবে শুরুতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস থাকলেও ধীরে ধীরে কিছু উদ্বেগও সামনে আসছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের খরচ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সরকারি সংস্থা ইতোমধ্যে কর্মীদের এই সহকারী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
চীনের প্রযুক্তি খাতে বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বহু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল তৈরি হলেও অল্প কয়েকটি টিকে আছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিকে যেমন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলছে। অনেক তরুণ এখন এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে একই সঙ্গে প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। তবুও অনেকেই মনে করছেন, নতুন বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।















