সরকার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, সংসদ ও সরকার গঠনের ভিত্তি যেহেতু সংবিধান, তাই একে উপেক্ষা করে কোনো জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের একমাত্র পথ হলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রস্তাবটিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-কে ভবিষ্যতের পথরেখা হিসেবে বর্ণনা করে এর আলোকে সংবিধান ও আইন সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি একে ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ ও ‘কালারেবল লিজিসলেশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যে যে সনদ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান আদেশে তার সবটুকু প্রতিফলিত হয়নি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে সংবিধান পুনর্লিখনের প্রয়োজন নেই; বরং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই এটি সম্ভব। এ লক্ষ্যে তিনি সব দলের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
বিতর্কে অংশ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য ভিন্ন কোনো অসাংবিধানিক পথ খোঁজার প্রয়োজন নেই। এই সনদ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, বরং এটি জনগণের রক্ত ও সংগ্রামের ইতিহাস।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংবিধানের ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করে এমন কোনো আইন প্রয়োগযোগ্য হবে না।
এদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবটি গ্রহণ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অতীতেও এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিণতি দেখা যায়নি। তবে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক তার বক্তব্যে জুলাই সনদকে ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল এবং বিএনপির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের চূড়ান্ত রোডম্যাপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও অংশ নেন সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আন্দালীব রহমান পার্থসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
গত ১ এপ্রিল প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর স্পিকার দুই ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করেছিলেন এই ঐতিহাসিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য। মূলত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং সাংবিধানিক সমন্বয় নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক বিতর্ক ও গুরুত্ব ফুটে উঠেছে এই অধিবেশনে।
















