দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা, নতুন সরকারের ইতিবাচক ইঙ্গিত
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন, ভিসা সেবা স্বাভাবিককরণ এবং জ্বালানি সহযোগিতা প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
আগামী ৭ ও ৮ এপ্রিল এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটি হবে বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশই দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
নতুন সরকার ইতোমধ্যে এই বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে এবং প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে চুক্তি নবায়নের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় উভয় দেশই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা এখন কাটিয়ে উঠতে চায় উভয় পক্ষ।
সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ভারতীয় সমকক্ষসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারত থেকে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও স্বাভাবিক করার বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গতি দিতে পারে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















