প্রতিনিধিত্বে বড় ঘাটতি, সমাধানে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান
কেবল ভোটার নয়, নেতৃত্বেও নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ
বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায়। সেখানে বলা হয়েছে, নারীরা ভোটার হিসেবে সক্রিয় থাকলেও নেতৃত্বের জায়গায় তাদের উপস্থিতি এখনও খুবই কম।
আলোচনাটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি এবং নির্বাচন কমিশন। এতে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বিদ্যমান বাধা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধান দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, নারীদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন।
আলোচনায় আরও বলা হয়, নারীর অংশগ্রহণ শুধু সমতার প্রশ্ন নয়, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুশাসনের সঙ্গেও জড়িত। নারীদের নেতৃত্বে আসা গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার উল্লেখ করেন, নারীদের অদেখা গৃহস্থালি কাজের অর্থনৈতিক মূল্য হিসাব করলে দেশের মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নারীদের জবাবদিহিতা ও সততার বিষয়টিও প্রশংসিত হয়।
অন্য বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র আইন বা কোটা নির্ধারণ করলেই হবে না, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে নারীরা নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে নেতৃত্বে আসতে পারেন।
এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলোচনার শেষে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগ ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
















