যুক্তরাষ্ট্রে মেইল-ইন ভোটিং সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে গেছে প্রায় দুই ডজন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্য।
শুক্রবার দায়ের করা এই মামলায় ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া অংশ নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্বাহী আদেশ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, “স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত্তি। কোনো প্রেসিডেন্ট এককভাবে নির্বাচনের নিয়ম পরিবর্তন করতে পারেন না।”
ট্রাম্পের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত ভোটারদের কাছেই ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হবে। এজন্য ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ভোটাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই পদ্ধতি অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করবে এবং এতে অনেক যোগ্য ভোটার বাদ পড়ে যেতে পারেন।
মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। কেন্দ্রীয় সরকার একতরফাভাবে এই নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে না।
এছাড়া নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় এমন পরিবর্তন বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ ভোট জালিয়াতি রোধের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন স্বাধীন গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যু রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বহু ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, বিশেষ করে যারা ডাকযোগে ভোটের ওপর নির্ভরশীল।
















