লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার পরও ইসরায়েল উল্টো বিমান হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। সর্বশেষ এই হামলায় দক্ষিণ লেবাননে মোটরসাইকেল আরোহী একজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল এখনও দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি অঞ্চলে তাদের সেনা মোতায়েন রেখেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা বারবার এই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ইসরায়েল দাবি করছে তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, তবে বেসামরিক নাগরিকরাও এসব হামলায় নিহত হচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে প্রেসিডেন্ট আউন ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলের সঙ্গে এক বৈঠকে আউন বলেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানে লেবানন আলোচনা করতে প্রস্তুত। কিন্তু যেকোনো আলোচনার জন্য উভয়পক্ষের সদিচ্ছা প্রয়োজন, যা বর্তমানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অনুপস্থিত।
আউন আরও যোগ করেন, লেবাননের আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে ইসরায়েল উল্টো আরও বেশি করে হামলা চালিয়ে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার কানিন গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত এবং অন্য একজন আহত হয়েছেন। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি হিজবুল্লাহর একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি দক্ষিণ লেবাননে দলটির অবকাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠার কাজ করছিলেন।
শুক্রবার নাবাতিয়াহতে আরেকটি পৃথক হামলায় একটি ভবনে আঘাত হানে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। এনএনএ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি ভবনটির ছাদে আঘাত করে। এতে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় সীমান্তবর্তী ব্লাইদা গ্রামের পৌর কর্মী ইব্রাহিম সালামেহ নিহত হন। আউন বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীকে লেবাননের ভূখন্ড এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলের এ ধরনের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের নির্দেশ দেন।
যদিও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মতো লেবাননের নিয়মিত বাহিনী ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে সাধারণত সরাসরি জড়িত হয় না, তবে সাবেক সেনাপ্রধান আউন ইসরায়েলের চাপানো স্থিতাবস্থায় ধৈর্য হারিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম শুক্রবার এক বক্তৃতায় লেবানন সরকারকে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে লেবাননে ১১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু অক্টোবরেই ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসেফ রাগি সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ইসরায়েলকে তাদের আক্রমণ বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে সহায়তা করার অনুরোধ জানান। রাগি এনএনএকে বলেন, কেবল সামরিক নয়, একটি কূটনৈতিক সমাধানই দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
















