অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টিতে ঐকমত্য; ২০টি স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ বাতিলের সুপারিশকে কেন্দ্র করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে আইন মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশটি রহিত করার প্রস্তাব দিলে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এর কঠোর বিরোধিতা করে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা মানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকেই অস্বীকার করা। তবে সরকারি দল বিএনপি বলছে, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো আলোচনা হয়নি এবং আগামী ২৯ মার্চের বৈঠকে অথবা সরাসরি সংসদ অধিবেশনে সংবিধানের আলোকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত পোষণ করেছে। তবে গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে এখনো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, সরকার এসব অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে সার্চ কমিটি বাদ দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সুপারিশকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্তে তাঁরা একমত হবেন না।
আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যথায় এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, সংসদ সংবিধান মেনেই চলবে এবং জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী প্রতিটি বিল বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে জুলাই সনদে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের যে অঙ্গীকার ছিল, সেটির সঙ্গে বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংবাদকর্মীরা। ২৯ মার্চের পরবর্তী বৈঠকে এই অমীমাংসিত ২০টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
















