মাত্র ৫০ বার চার্জিং চক্র বিশ্লেষণেই মিলবে নির্ভুল ভবিষ্যৎবাণী; ৯৫ শতাংশ সময় ও শক্তি সাশ্রয়ের দাবি গবেষকদের
স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক গাড়ি—সব আধুনিক ডিভাইসের প্রাণভোমরা হলো এর ব্যাটারি। কিন্তু ফোন কেনার কিছুদিন পরেই ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বা ‘ব্যাটারি হেলথ’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন না এমন ব্যবহারকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এতকাল একটি ব্যাটারি কতদিন টিকবে বা কতবার চার্জ দেওয়ার পর সেটি অকেজো হতে শুরু করবে, তা জানতে দীর্ঘ গবেষণাগার পরীক্ষার প্রয়োজন হতো। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এখন সেই অসাধ্য সাধন করতে চলেছে। গবেষকরা দাবি করছেন, উন্নত ‘এজেন্টিক এআই’ (Agentic AI) সিস্টেম ব্যবহার করে এখন অত্যন্ত অল্প সময়ে যেকোনো ব্যাটারির ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতা সম্পর্কে শতভাগ নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব, যা প্রযুক্তি বিশ্বে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণত একটি নতুন মডেলের ব্যাটারির স্থায়িত্ব যাচাই করতে সেটিকে শত শত বার চার্জ ও ডিসচার্জ করে পরীক্ষা করতে হতো, যাতে কয়েক মাস থেকে শুরু করে বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেত। কিন্তু নতুন এই এআই প্রযুক্তিতে মাত্র ৫০টি চার্জিং সাইকেলের তথ্য বিশ্লেষণ করেই বলে দেওয়া সম্ভব ব্যাটারিটি কতবার ব্যবহারের পর তার সক্ষমতা হারাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে ব্যাটারির মান যাচাই করতে আগের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশ শক্তি ও সময় ব্যয় হয়। অর্থাৎ, ৯৫ শতাংশ সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে উন্নত মানের ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি বাজারে ছাড়তে পারবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই এআই সিস্টেমের প্রভাব কেবল স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনবে, কারণ এখন থেকে গাড়ির মালিকরা আগেভাগেই জানতে পারবেন তাঁদের ব্যাটারি কত বছর নিখুঁত সার্ভিস দেবে। এছাড়া ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট আরও বেশি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। ড্রোনের মতো ডিভাইসে ব্যাটারির সঠিক স্থায়িত্ব জানা অত্যন্ত জরুরি, যা এখন এআই-এর মাধ্যমে অনেক সহজ হয়ে গেল। ব্যাটারির এই নতুন ডিজিটাল ভবিষ্যৎ কেবল সময় বাঁচাবে না, বরং ডিভাইসের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে গ্রাহকের অর্থ সাশ্রয়েও বড় ভূমিকা রাখবে।
















