জামালগঞ্জে পানিনিষ্কাশন নিয়ে বিবাদ; শান্তিপুর ও কাশিপুর গ্রামবাসীর লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওরের পানিনিষ্কাশনের জন্য একটি ফসল রক্ষা বাঁধ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে পানিনিষ্কাশনের পথ বের করা নিয়ে হাওরপারের কাশিপুর ও শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। আজ সকালে কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আমির আলীর নেতৃত্বে একদল লোক বাঁধ কাটতে গেলে শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাতে বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
আহতদের মধ্যে সামিরুল ইসলাম, রাফাত হোসেন এবং হানিফ মিয়াসহ ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কাশিপুর গ্রামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফসল বাঁচাতে নিরুপায় হয়ে তাঁরা বাঁধ কাটতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, শান্তিপুর গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী দুটি খালের বাঁধ একসঙ্গে না কেটে একটি নির্দিষ্ট বাঁধ কাটলে তাঁদের জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে বাঁধ কাটতে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
জামালগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ ঘোষ জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উভয় খালের বাঁধ কেটে পানিনিষ্কাশনের বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগেই এক পক্ষ তড়িঘড়ি করে ব্যবস্থা নিতে গেলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।















