সমুদ্রসৈকতে ১০ লাখ পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা; সাজেক ও রাঙামাটির রিসোর্টগুলোতে শতভাগ আগাম বুকিং
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলোতে বইছে উৎসবের আগাম হাওয়া। দীর্ঘস্থায়ী মন্দাভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদের ১০ দিনে কেবল কক্সবাজারেই প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে এই সময়ে অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের প্রায় ৭০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে পাহাড়ি জনপদ রাঙামাটি ও মেঘের রাজ্য সাজেকেও। সাজেকের শতাধিক রিসোর্ট আগামী ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং হয়ে যাওয়ায় পর্যটন অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। রাঙামাটির পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের এক সপ্তাহে জেলাটিতে অন্তত ২০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।
কক্সবাজারের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট থেকে শুরু করে ইনানী ও মেরিন ড্রাইভের রিসোর্টগুলোতে এখন সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনের জন্য অনেক বিলাসবহুল হোটেলে ডিজে পার্টি, স্যাক্সোফোন পারফরম্যান্স এবং বিশেষ ডিনার অফারের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজান মাসজুড়ে পর্যটক না থাকায় যে ক্ষতি হয়েছে, ঈদের এই মৌসুমে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে শেষ মুহূর্তে আবাসন সংকট তৈরি হতে পারে বলে অনলাইনে আগাম বুকিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ গার্ড সদস্যরা ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে লাল পতাকা টাঙানোর পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজার ও রাঙামাটি উভয় জেলাতেই তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সৈকতে তিনটি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। পর্যটন হয়রানি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু থেকে শুরু করে কাপ্তাই হ্রদের ট্যুরিস্ট বোটগুলোকেও নতুন রঙে সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং পর্যটন স্পটগুলোতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার থাকবে। পাহাড় আর সমুদ্রের এই যুগলবন্দী উৎসবে পর্যটকদের বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ।
















