ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে আটক থাকা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১১ শিক্ষার্থীকে অবশেষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও সিটি ইউনিভার্সিটির বক্তব্য
সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ জানান, আজ বেলা আড়াইটার দিকে ওই শিক্ষার্থীদের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের কয়েকজন লোকের কাছে তুলে দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, “আমরা তাদের আটকে রাখিনি। তারা এখানে ঘুরেফিরেই বেড়াচ্ছিল। যেহেতু অনেকে রাতে আটকা পড়েছিল, তাই কেউ যেন তাদের আঘাত করতে না পারে, সেজন্য তাদের নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছিল। এরপর তারা (ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষ) এসে নিয়ে গেছে।”
এই ঘটনার জেরে, সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং এই সময়ের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের মারধরের অভিযোগ
অন্যদিকে, আটক শিক্ষার্থীদের মারধর করার গুরুতর অভিযোগ এনেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন,
জিম্মি থাকা ছাত্রদের সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিলেও “দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হলো, তাঁদের পিটিয়ে আধমরা করে ফেলা হয়েছে।”
সৈয়দ মিজানুর রহমান দাবি করেন, মূলত ইউজিসির (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) প্রতিনিধিদলের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা মুক্তি পেয়েছে। ওই প্রতিনিধিদল, প্রক্টোরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে তাদের হস্তান্তর করা হয়। মুক্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপক মারধর করা হয়েছে জানিয়ে তাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ড্যাফোডিলের উপাচার্য শিক্ষার্থীদের হামলা চালানোর জন্য পাঠিয়েছেন—এমন কথা জোর করে ছাত্রদের কাছ থেকে জবানবন্দি হিসেবে আদায় করা হয়েছে।
সিটি ইউনিভার্সিটির ক্ষতি ও পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ
এর আগে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় তাঁদের ২৫-২৬ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং শতাধিক আহত হয়েছে। তিনি আরও জানান, হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, “তারা (ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা) শিক্ষার্থীসুলভ আচরণ করেনি। যাদের ধরা হয়েছিল, তারা ভাঙচুর চালাচ্ছিল। একজন শিক্ষার্থী ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এসি—এগুলো কি চুরি করতে পারে?”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি। উপাচার্য জানান, তারা ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চান, অন্যথায় আইনের আশ্রয় নেবেন।
















