ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগীর কাছ থেকে পাওয়া ১৩০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনা সদস্যদের বেতন পরিশোধে ব্যবহার করবে বলে নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানান, “এই অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে, শর্ত ছিল এটি যেন সেনা সদস্যদের বেতন ও সুবিধার খরচ মেটাতে ব্যবহার করা হয়।” তিনি বলেন, এই অর্থ বিভাগটির “সাধারণ উপহার গ্রহণের ক্ষমতার আওতায়” গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারি অর্থায়নের প্রচলিত নীতিমালা থেকে এই পদক্ষেপকে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মার্কিন সেনাবাহিনী সাধারণত কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়।
কংগ্রেসের দুই দলের বরাদ্দ কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি তারা। ডেমোক্রেটিক সদস্যরা এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সেনেটের প্রতিরক্ষা বরাদ্দ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ডিক ডারবিনের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে জানতে চেয়েছেন, “এই অনুদান ও সাম্প্রতিক বাজেট পুনর্বিন্যাস কীভাবে অ্যান্টিডেফিসিয়েন্সি অ্যাক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অ্যান্টিডেফিসিয়েন্সি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ফেডারেল সংস্থা তাদের বরাদ্দের সীমা অতিক্রম করে অর্থ ব্যবহার করতে পারে না। এ আইন স্পষ্টভাবে বেসরকারি অনুদানকে সরকারি অর্থ ঘাটতি পূরণের জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করে।
বাইপার্টিসান পলিসি সেন্টারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক রিপাবলিকান বাজেট উপদেষ্টা বিল হোগল্যান্ড বলেন, “তারা হয়তো এই অর্থ গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু এই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারবে না, কারণ আইন এ বিষয়ে পরিষ্কার।”
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৩০ মিলিয়ন ডলারের এই অনুদান এসেছে তার এক “বন্ধুর” কাছ থেকে, যিনি সরকারের আর্থিক ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে চেয়েছেন। তবে তিনি দাতার নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “তিনি আসলে স্বীকৃতি চান না।”
দাতার পরিচয়, বিদেশি সংযোগ বা স্বার্থ আছে কিনা—এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জানান, বিষয়টি পেন্টাগন ও ট্রেজারি বিভাগকে জিজ্ঞাসা করতে। কিন্তু পেন্টাগন বিষয়টি আবার হোয়াইট হাউসে পাঠায়, আর ট্রেজারি বিভাগ কোনো মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগন এই অনুদানকে “অজ্ঞাত দান” হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং কংগ্রেসকে এর বিস্তারিত জানানো হবে কিনা সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
















