মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধাবস্থা ও সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলে এবং সংকট নিরসন হলে বাংলাদেশ সরকারও খুব দ্রুত দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় সমন্বয় করার জোরালো উদ্যোগ নেবে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ মূলত একটি জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর দেশ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে যে অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ তেল আমদানি করে থাকে, সেখানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করায় এর প্রত্যক্ষ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে তেল আমদানির ক্ষেত্রে বীমা প্রিমিয়ামসহ সার্বিক আমদানি ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আগের মতো অপরিবর্তিত বা ভর্তুকি দিয়ে ধরে রাখা সরকারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। সরকার প্রথমে প্রায় ছয় মাস পরিস্থিতি বিভিন্ন উপায়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালালেও কোনো কার্যকর বিকল্প না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই দাম সমন্বয়ের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিলটন এবং পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, সার্বিক উন্নয়ন সম্ভাবনা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা বিশদভাবে তুলে ধরেন।






















