এ বিভাগে এক হাজার ৭৬৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পুরো বিভাগে ৫ স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ১ হাজার ৭৬৭টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারের সমন্বয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য মাঠে কাজ করছেন।
রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনী নিরাপত্তার মূল পরিসংখ্যান:
- মোট ভোটার ও কেন্দ্র: বিভাগের ৮টি জেলায় ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন ভোটার ৫,২৮৭টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
- নিরাপত্তা বাহিনীর বিন্যাস: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১০ হাজার সেনাসদস্য, ৪,১২৩ জন বিজিবি, ১৬,২০১ জন পুলিশ, ১,০০৬ জন র্যাব এবং ৭২,৭৩৬ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকছেন। প্রতি আসনে গড়ে ২,৬৬৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
- প্রযুক্তিগত নজরদারি: ৫,২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য ২,৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: শৃঙ্খলা রক্ষায় ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভাগে ১৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪,৫৯৪টি বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়েছে। ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের জন্য ‘জয়েন্ট অপারেশন সেল’ এবং ‘মিডিয়া সেল’ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
এদিকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে রাজশাহীর ৭৭৮টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো শুরু হয়েছে। মহানগরীর মাদ্রাসা মাঠসহ বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। রাজশাহীর ৬টি আসনে ৪৯০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ১৬ হাজার ১১৩ জন নিরাপত্তা সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।
















