ইন্টারনেট ও দ্রুত যোগাযোগের এই যুগে চিঠিপত্রের ব্যবহার কমলেও বিশ্ব ডাক দিবস (১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন গঠনের দিন) আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় ডাক বিভাগের সোনালী অতীত। কলেজ শিক্ষক রাফিয়া হকের স্মৃতিচারণে উঠে আসে প্রায় আড়াই দশক আগের চিত্র, যেখানে হলুদ বা নীল খামে আসা ব্যক্তিগত চিঠি ছিল আবেগের অংশ। এখন ব্যক্তিগত চিঠি আদান-প্রদানের চল না থাকলেও, সরকারি নির্দেশনামা, বিল এবং বিশেষ করে দেশ-বিদেশে পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে এখনো মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে ডাক বিভাগ।
যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যক্তিগত চিঠির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। এখন চ্যাটিং বা মেইলের মাধ্যমে মুহূর্তেই তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব। তবুও ডাক বিভাগ টিকে আছে:
দাপ্তরিক কার্যক্রম: এখনো সরকারি চিঠি, সমন, নির্দেশনামা বা বিল পাঠানোর জন্য ডাক বিভাগই প্রধান ভরসা।
রেজিস্ট্রি সেবা: বগুড়া প্রধান ডাকঘরের রেজিস্ট্রি বিভাগ থেকে জানা যায়, এখনো দিনে গড়ে সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ চিঠি রেজিস্ট্রি হয়, যার প্রায় সবই সরকারি চিঠি। সরকারি দপ্তরের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ বা দাপ্তরিক আবেদন রেজিস্ট্রি করতে মানুষ এখনো পোস্ট অফিসে আসেন।
আধুনিক সেবা ও পার্সেল আদান-প্রদান
বর্তমানে পোস্ট অফিসগুলোতে নতুন বেশ কিছু সেবা চালু হয়েছে। এখন বেশিরভাগ পোস্ট অফিসে ব্যাংকিং কার্যক্রম, যেমন পেনশন বা বেতন দেওয়া হয়। এছাড়া ইলেকট্রনিক্স মানি ট্রান্সফার, ইলেকট্রনিক্স ক্যাশ কার্ড, সেবা সঞ্চয়, পোস্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, জিইপি, রাজস্ব ও ডাক টিকিট বিক্রি এবং পার্সেলসহ আরও বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে।
বগুড়া প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল কাম পোস্টমাস্টার আল আমিন জানান, ডাক বিভাগের মাধ্যমে পার্সেল পাঠাতে খরচ কম। স্বল্প সময়ে ডেলিভারির কারণে দেশের অভ্যন্তরে মানুষ কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করলেও দেশের বাইরে পার্সেল পাঠানোর জন্য মানুষ এখনো ডাক বিভাগকেই আস্থায় রেখেছেন, যে কারণে ফরেন পার্সেল বুকড হয় বেশি।
বগুড়ায় পার্সেল বুকিং বৃদ্ধি
বগুড়া ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া প্রধান ডাক বিভাগ থেকে ৫ লাখ ২৭ হাজার ২১৭টি চিঠি ও পার্সেল বিলি করা হয়েছে। তবে গত দুই বছরের তুলনায় চলতি ২০২৫ সালে বুকিং বেড়েছে, যা নির্দেশ করে ডাক বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা এখনো অটুট রয়েছে।
জনবল ও পরিবহন সংকট
ডাক বিভাগকে ডিজিটালাইজড করা হলেও জনবল ও পরিবহন সংকট এর অন্যতম প্রধান সমস্যা। বগুড়ায় প্রায় ১৩০টি পদ থাকলেও জনবল তার অর্ধেকেরও কম। এছাড়া পার্সেল পাঠানোর জন্য পরিবহন সঙ্কটের পাশাপাশি তেলের বরাদ্দ নিয়েও সমস্যা রয়েছে।
যদিও হোয়াটসঅ্যাপ, মেইল ও চ্যাটিংয়ের যুগে মানুষ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা আশা করে, এবং সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কিছুটা পিছিয়ে, তবুও কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ে অনেক কম মূল্যে সেবা দিয়ে এটি দেশের মানুষের জীবনে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
















