যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন নথি সামনে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই সারা ফার্গুসনের দাতব্য সংস্থা সারা’স ট্রাস্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় ছিল এবং বোর্ডের সম্মতিক্রমেই তা নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তিন মিলিয়নের বেশি নথি প্রকাশ করে। সেসব নথির মধ্যে থাকা কিছু ইমেইলে দেখা যায়, নাবালকের সঙ্গে যৌন অপরাধের দায়ে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সারা ফার্গুসনের যোগাযোগ ছিল। তবে নথিতে নাম থাকা মানেই কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়।
এই সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সারা ফার্গুসনের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত সারা’স ট্রাস্ট মানবিক ও পরিবেশগত সংকট, খাদ্যসংকট এবং চরম দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোগে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিল বলে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে।
সংস্থার মুখপাত্র জানান, চেয়ার সারা ফার্গুসন এবং ট্রাস্টি বোর্ড দুঃখের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে সংস্থাটি শিগগিরই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগেও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে তথ্য প্রকাশের পর গত বছর একাধিক দাতব্য সংস্থা সারা ফার্গুসনকে পৃষ্ঠপোষক বা রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। শিশু হসপিস জুলিয়াস হাউস প্রথম এই সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আরও কয়েকটি ক্যানসার গবেষণা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সংস্থাও একই পথ অনুসরণ করে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনও তাকে তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আর রাখেনি।
সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে সারা ফার্গুসনের সাবেক স্বামী অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের কিছু ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি সব সময়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নতুন নথির একটি অংশে দেখা যায়, সারা ফার্গুসন এক ইমেইলে এপস্টেইনকে ‘যে ভাইটি তিনি সব সময় চেয়েছিলেন’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্য একটি ইমেইলে এপস্টেইনের ‘শিশুপুত্র’ আগমনে তাকে অভিনন্দন জানাতেও দেখা যায়।
এছাড়া নিজের ব্যবসায়িক উদ্যোগ ‘মাদার্স আর্মি’ শুরু করা ও বাণিজ্যিকভাবে দাঁড় করানোর বিষয়ে এপস্টেইনের কাছে পরামর্শ চেয়েও তিনি একাধিক ইমেইল পাঠিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের জুনে পাঠানো একটি ইমেইলে তিনি লেখেন, কীভাবে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে সাহায্য চান।
এপস্টেইন ২০০৯ সালের জুলাই মাসে কারামুক্ত হন। মুক্তির কিছু আগেই এসব ইমেইল আদান–প্রদান হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
















