বাংলাদেশের একটি আদালত দুর্নীতির মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ের প্রক্রিয়াকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে লেবার পার্টি। এর আগেও গত বছরের শেষ দিকে একই ধরনের অভিযোগে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
আদালত পৃথক দুর্নীতির মামলায় তুলিপ সিদ্দিকের খালা ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরও দুই সদস্যকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। এসব মামলার বিচার অনুপস্থিতিতে হয়েছে এবং অভিযুক্তরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন, টিউলিপ সিদ্দিক এই মামলায় ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাননি এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে সম্পর্কেও তাকে কখনো জানানো হয়নি। তার আইনজীবীদের মাধ্যমে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি বলেও দাবি করা হয়। মুখপাত্র বলেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থাকা উচিত, যা এখানে মানা হয়নি। তাই এই রায় স্বীকৃত হতে পারে না।
চার বছরের নতুন এই সাজা যুক্ত হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরের রায়ের সঙ্গে। ওই সময় আদালত রায় দেন, টিউলিপ সিদ্দিক ঢাকার উপকণ্ঠে একটি জমি বরাদ্দ পেতে তার খালাকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে প্রভাবিত করেছিলেন।
হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট আসনের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক পুরো প্রক্রিয়াকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ ও হাস্যকর বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছড়ানো হলেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খালার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন ওঠার পর যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন টিউলিপ সিদ্দিক। লন্ডনে খালার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি ব্যবহারের বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসে। প্রধানমন্ত্রীর নৈতিকতা–বিষয়ক উপদেষ্টা জানান, অনিয়মের প্রমাণ না মিললেও সম্ভাব্য সুনামহানির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।
পদত্যাগপত্রে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করেছেন, তবে সরকারকে বিব্রত না করতে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলাগুলো শুরু হয় তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি ভারতে চলে যান। গত বছর ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই বিচারকে পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছিলেন শেখ হাসিনা।














